আমরা ন্যায়বাংলা পার্টি (চেঞ্জ মেকার পার্টি বাংলাদেশ)
ন্যায়বাংলা পার্টি ( Alternative English Name: Change Maker Party Bangladesh- CMPBD ) একটি দুর্নীতিবিরোধী, মানবাধিকারভিত্তিক, উদার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী জনসেবামুখী রাজনৈতিক সংগঠন।

Change Maker Party Bangladesh (CMP BD)
In Bangla: NyayBangla party
- We want to get 50,000 supporters for our political party.
- We want to recruit 500+ volunteers, each tasked with mobilizing 100 supporters for our party.
- We offer volunteer roles to students and partnership with progressive student union.
- We want to build People-First Campaign and Grassroots Mobilization.
- We will do Door-to-Door Canvassing to each of 12 crores voters and will train our 50,000 supporters and volunteers to visit their homes, we will engage students and women’s groups so that we can build a strong volunteer base.
- We will run a nationwide “Clean Politics Pledge” with a goal of 50,000 signatures.
- We want to reach our 12 crore Bangladeshi voters. We need your financial and voluntary support.
আমরা ন্যায়বাংলা পার্টি (চেঞ্জ মেকার পার্টি বাংলাদেশ -সিএমপি বিডি)।
ন্যায়বাংলা পার্টি (চেঞ্জ মেকার পার্টি বাংলাদেশ – সিএমপি বিডি) একটি দুর্নীতিবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শভিত্তিক, মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতাকেন্দ্রিক, জনসেবামুখী রাজনৈতিক সংগঠন; যা উদার গণতান্ত্রিক (লিবারেল ডেমোক্রেসি) মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং রাজনৈতিক সহিংসতামুক্ত পূর্ণ গণতন্ত্রের (Full Democracy) বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। আমরা প্রগতিশীল, আধুনিকতাবাদী ও মধ্য-বামপন্থী রাজনৈতিক চেতনায় বিশ্বাসী, বাঙালি জাতীয়তাবাদের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে সমর্থন করি এবং ভাষা–সংস্কৃতির স্বাধিকার ও বৈচিত্র্যের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করি। আমরা ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই অর্থে যে ইসলাম প্রকৃতই শান্তির ধর্ম, এবং রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক হবেনা (যেমন ভোটের অধিকার, বাক স্বাধীনতা, ব্যাক্তি স্বাধীনতা, ভিন্নমতে সহনশীলতা, বৈচিত্রময় এবং বহুত্ব-ভিত্তিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ইত্যাদি)।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বাম–ডান বিভাজনকে প্রধান মেরুকরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
আমরা মনে করি, এই বিভাজন বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ।
বাংলাদেশের রাজনীতিকে এতদিন বাম–ডান মেরুকরণে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কিন্তু এই নামকরণ ভুল।
বাস্তবে লড়াইটা বাম বনাম ডান নয়; আসল লড়াইটা উদার গণতন্ত্রের সঙ্গে রক্ষণশীল, অধিকার সংকোচনকারী ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও অগণতান্ত্রিক মাফিয়া শক্তির।
একদিকে আছে মানবাধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা, আইনের সমতা ও মতপ্রকাশের অধিকার। অন্যদিকে আছে ধর্ম, আবেগ ও ক্ষমতার অপব্যবহার দিয়ে মানুষের অধিকার সংকুচিত করার চেষ্টা।
বাংলাদেশের রাজনীতির প্রকৃত বিভাজন বাম–ডান নয়;
বাংলাদেশের রাজনীতির প্রকৃত নাম হওয়া উচিতঃ উদারপন্থী বনাম রক্ষণশীল ও দুর্বৃত্ত রাজনীতি।
আমরা মনে করি,
বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত তিনটি ধারায় বিভক্ত।
প্রথমত, উদারপন্থী গণতন্ত্র, যেখানে একজন উদার গণতন্ত্রী মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করেন, গণতন্ত্র, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্নীতি রোধে বিশ্বাস করেন, বিচারবহির্ভূতভাবে বা বেআইনিভাবে উগ্র মব-সহিংসতা করে নয়। যারা সংখ্যাগরিষ্ঠের ক্ষমতাকেও আইনের শাসন ও ন্যায়বোধের সীমার মধ্যে রাখেন, এবং ভিন্নমত ও সংখ্যালঘুর অধিকারকে গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ হিসেবে স্বীকার করেন।
দ্বিতীয়ত, দুর্নীতি ও সহিংসতানির্ভর ছদ্ম-গণতন্ত্র, যা প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের মুখোশ পরা দুর্নীতিগ্রস্ত আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা, মাফিয়া সন্ত্রাস ও গোষ্ঠী-স্বার্থনির্ভর রাজনীতি; ক্ষমতা, অর্থ, পেশিশক্তি ও সহিংসতার জোরে বিবেকবান, সচেতন ও শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ সংকুচিত করে।
তৃতীয়ত, রক্ষণশীল অগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা, যার মধ্যে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার-বিদ্বেষী ধর্মভিত্তিক ফ্যাসিবাদী বা ধর্মীয় জাতিয়তাবাদী রাজনীতি অন্তর্ভুক্ত, যা ধর্ম, আবেগ, মব সন্ত্রাস, কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের অধিকার সংকুচিত করে।
ন্যায়বাংলা পার্টি স্পষ্টভাবে প্রথম ধারার রাজনীতি বেছে নেয়।
আমরা উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষের শক্তি।
উদারপন্থী গণতন্ত্র বলতে আমরা অর্থনৈতিক উদারীকরণ বা বাজারকেন্দ্রিক নীতিকে বুঝি না। আমাদের কাছে উদার গণতন্ত্রের অর্থ ভিন্ন।
ন্যায়বাংলা পার্টির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হলো-
জাতিসংঘ ঘোষিত সর্বজনীন মানবাধিকার সনদের প্রতিটি ধারা এবং নাগরিক স্বাধীনতা।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, আইনের সমতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা আমাদের কাছে কোনো অনুগ্রহ নয়, এগুলো জনগণের মৌলিক অধিকার।
রাষ্ট্রের ক্ষমতা মানুষের স্বাধীনতা সীমিত করার জন্য নয়, বরং সেই স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্যই থাকা উচিত।
আইন, প্রশাসন ও রাজনীতি মানুষের অধিকার রক্ষার উপকরণ হবে, নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার নয়।
এই কারণেই ন্যায়বাংলা পার্টির মূল পরিচয়
উদার গণতন্ত্র, লিবারেল ডেমোক্রেসি, মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা।
আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে ক্ষমতার রাজনীতি নয়, অধিকারভিত্তিক গণতন্ত্রই একমাত্র পথ।
সৎ, দেশপ্রেমিক, দুর্নীতিবিরোধী, কিন্তু আধুনিক, প্রগতিশীল চিন্তার ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষদের একত্রিত করাই চেঞ্জ মেকার পার্টির লক্ষ্য।
দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই- এটিই ন্যায়বাংলা পার্টি গঠনের মূল উদ্দেশ্য।
আমাদের মূলনীতি হচ্ছে জনগনের ক্ষমতায়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
আমরা ভালো মানুষদের ক্ষমতায়ন চাই।
আমরা বিশ্বাস করি—
- প্রতিটি মানুষ আলাদা সত্তা, তার অধিকার সার্বজনীন- সার্বজনীন মানবাধিকার ( অর্থাৎ, লিবারেল ডেমোক্রেসি)
- আইনের শাসন ও জনগণের ক্ষমতায়ন (অর্থাৎ, ডিরেক্ট ডেমোক্রেসি)
- দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নাগরিক-বান্ধব প্রশাসন (অর্থাৎ, ডিজিটাল ডেমোক্রেসি)
- রাষ্ট্রের প্রথম ও শেষ দায়িত্ব—মৌলিক চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জনগণকে শোষণমুক্ত করা (অর্থাৎ, সোশ্যাল ডেমোক্রেসি)
এই চার প্রকার গণতন্ত্রের ভিত্তিতে আমরা গড়তে চাই একটি ডিজিটাল ওয়েলফেয়ার স্টেট—
যেখানে রাষ্ট্র হবে মানুষের সেবক, প্রভু নয়।
এটাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যতের রাজনীতিতে যুক্ত হোন এখনই।
লিবারেল, ডিরেক্ট, ডিজিটাল ও সোশ্যাল ডেমোক্রেসির সমন্বয়ে—ডিজিটাল ওয়েলফেয়ার স্টেট গড়াই চেঞ্জ মেকার পার্টি বাংলাদেশের রাজনীতি।
আমরা কিছু সাধারণ মানুষের দল। বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্বল, বাংলাদেশের সবচেয়ে সাধারণ, বাংলাদেশের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ গুলোর বিশ্বাস অর্জন করতে চাই। তাদের শক্তির জায়গা হতে চাই।
আমরা কোন অর্থে বামপন্থী?
আমরা বামপন্থী এই অর্থে যে আমরা ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজির মাফিয়া সিস্টেমকে পরিবর্তনের পক্ষে, এবং আমরা আইনের শাসন ও জনগণের ক্ষমতায়নের পক্ষে, আমরা পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি বাতিলের পক্ষে, আমরা রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত – আমলা মিলিটারি- ব্যবসায়ী এই ত্রয়ী মাফিয়াশক্তির ঘুষ, দুর্নীতির বিপরীতে জনগণের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন সিস্টেমের পক্ষে। আমরা একটি স্বচ্ছ, উন্মুক্ত, গনতান্ত্রিক সিস্টেমের পক্ষে যেখানে রাজনীতিবিদ, সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্রকে একটি জবাবদিহিতার মধ্যে আনা যাবে, যেখানে দুর্নীতি করা অসম্ভব হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশ আজ দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত—উপরের রাষ্ট্রে আছে অল্পসংখ্যক এলিটের বিলাসী উন্নয়ন, নিচের রাষ্ট্রটি কোটি মানুষের অদৃশ্য শ্রমিক রাষ্ট্র। এদেশের সিংহভাগ কর্মক্ষম মানুষ আজও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করে—রিকশাচালক, দোকানকর্মী, গার্মেন্ট শ্রমিক, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, পরিবহন ও সেবা খাতের শ্রমিক—যাদের ঘামে এই রাষ্ট্র টিকে আছে, অথচ তাদের জীবনে নেই স্থায়ী নিরাপত্তা, সম্মান বা ন্যায্য আয়। আমরা এই অদৃশ্য জনগোষ্ঠীর মর্যাদা, অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। এই দুই স্তরের ব্যবধানই হলো বাংলাদেশের প্রকৃত শ্রেণিসংগ্রাম। এটি অস্ত্রের নয়, মর্যাদার যুদ্ধ; এটি নীতির নয়, ন্যায়বোধের পরীক্ষা। আমাদের সমাজতান্ত্রিক রাজনীতি এই কোটি মানুষের রাজনীতি—যেখানে শ্রেণিসংগ্রাম মানে অস্ত্র নয়, যাদের ঘামে এই রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে আছে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার গণতান্ত্রিক সংগ্রাম।
আমরা একটি দুর্নীতিবিরোধী, মধ্য-বামপন্থী, বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদী দল। মধ্যবামপন্থী দল হিসেবে আমরা এমন ব্যাক্তিদের সদস্য হিসেবে আমাদের দলে আশা করি যারা এদেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার যেমনঃ ব্যাক্তি স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন, যারা ভিন্নমতে সহিষ্ণুতা ধারণ করেন এবং যারা এদেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা এবং মর্যাদার সাথে জীবিকা নির্বাহের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন।
আমাদের ন্যায়বাংলা (চেঞ্জ মেকার) পার্টির সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে এটি বাংলাদেশের মানুষদের মানুষদের আকাঙ্ক্ষার ভিতর থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উঠে আসা একটি দল। অর্থাৎ এমন না যে এটি কোন বিদেশি রাষ্ট্রের প্ররোচনায়, বা গোয়েন্দা সংস্থার কারসাজির ফলে সৃষ্ট কোন দল। আপনি নিশ্চিত থাকুন। চেঞ্জ মেকার পার্টি (সিএমপি) একটি নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। সরকার গঠন করতে কেবলমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের সমর্থন অর্জন ছাড়া আর কোন দুই নম্বরি পথ আমাদের জানা নেই। মানুষ যদি সমর্থন দেয় আমরা সরকার গঠন করতে পারব। না দিলে পারবনা।
সরকার গঠন করতে পারলে মানুষের সেবা করা ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য আমাদের নাই।
আমরা কোন সহিংস পথে যাবনা। আমরা অহিংস পদ্ধতির আন্দোলনে বিশ্বাসী। সহিংসতার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা থাকলে আমরা সেটি এড়িয়ে যাব।
আমাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমঃ
ন্যায়বাংলা পার্টির রাজনৈতিক দর্শন
বাংলাদেশের রাজনীতি নতুন ভিত্তি চাই—
ক্ষমতার লড়াই নয়, মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই।
ন্যায়বাংলা পার্টির ( Alternative English: Change Maker Party) রাজনৈতিক কার্যক্রম দাঁড়িয়ে আছে এই মূল নীতিগুলো প্রতিষ্ঠার উপরেঃ
১. মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার পূর্ণ সুরক্ষা
রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব-
প্রতিটি নাগরিকের জীবন, মর্যাদা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের স্বাধীনতা,
চিন্তা, বিবেক, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার নিশ্চয়তা।
ন্যায়বিচার ও মানুষের মানবাধিকার রক্ষা-আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রীয় ভিত্তি।
২. দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান
ঘুষ, লুটপাট আর ক্ষমতার অপব্যবহার-দুর্নীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষমতা-কাঠামোর রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়া, জনসম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
আমরা বিশ্বাস করি, দুর্নীতি মানেই সাধারণ মানুষের অধিকার লুণ্ঠন।
৩. সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিমণ্ডল
রাজনীতি হবে যুক্তি ও নৈতিকতার জায়গা, মত প্রকাশের অস্ত্র হবে কথা, আর সিদ্ধান্তের শক্তি হবে ভোট। এখানে লাঠি নয়, গণআলোচনা চলবে; ভয় নয়, ভোট চলবে। কোনো দল, নেতা বা কর্মীর হাতে সহিংসতা বৈধ হবে না। মতভেদ থাকবে-সহিংসতা নয়।
৪. সুশাসন ও পূর্ণ জবাবদিহি
রাষ্ট্রের প্রতিটি বিভাগ- প্রশাসন, পুলিশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার- জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। আমলাতন্ত্র থেকে সরকার—সুশাসনের অর্থই হলো জবাবদিহি; রাষ্ট্রের কোনো স্তরেই দায়মুক্তি নেই।
৫. আইনের শাসন ও জনগণের ক্ষমতায়ন
কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়—
ব্যক্তি নয়, দল নয়, দলপ্রধান নয়, সরকার নয়, এমনকি সরকারপ্রধানও নয়।
মানবাধিকারের একটি মৌলিক উপাদান হিসেবে আইনের শাসন আমাদের রাষ্ট্রচিন্তার মূল চেতনা হবে
এবং ন্যায়বাংলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চর্চার মৌলিক নীতি।
রাষ্ট্রের সব সিদ্ধান্তে জনগণ ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা- এটাই গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপ।
জনগণকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে বসানোই ন্যায়বাংলার রাজনৈতিক লক্ষ্য।
৬. গণতান্ত্রিক শিক্ষা ও নাগরিক সচেতনতা
নাগরিকদের মাঝে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার চেতনা, রাষ্ট্রবোধ, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, বৈচিত্র্যের প্রতি সহনশীলতা- এসব শেখানো হবে জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে।
গণতন্ত্র তখনই টিকে থাকে, যখন জনগণ গণতন্ত্রের নৈতিকতা বোঝে।
৭. নিজের ও অন্যের অধিকার—দুইয়ের প্রতি সমান দায়িত্ব
একটি সভ্য সমাজে শুধু নিজের অধিকারই অধিকার নয়; অন্যের অধিকার রক্ষা করাও নিজের দায়িত্ব।
পরস্পরের এই অধিকার বোধই একটি মুক্ত, মানবিক, সভ্য রাষ্ট্রের ভিত্তি।
৮. সরকারি প্রশাসনে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও উন্মুক্ত ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থা
ন্যায়বাংলা পার্টির সবচেয়ে বড় কাঠামোগত সংস্কার–
সরকারি সেবাকে পুরোপুরি ডিজিটাল, স্বচ্ছ, ট্র্যাকযোগ্য এবং ভিডিও রেকর্ডযোগ্য করা।
৮.১ ভিডিও রেকর্ডিং–ভিত্তিক সেবা নিশ্চয়তা
সব সরকারি সেবা কেন্দ্র—
- ভূমি অফিস
- উপজেলা/জেলা প্রশাসন
- সিটি/পৌরসভা
- ইউনিয়ন পরিষদ
- সরকারি হাসপাতাল
- থানা পুলিশের সেবা
—সবগুলিই থাকবে বাধ্যতামূলক অডিও–ভিডিও রেকর্ডিংয়ের আওতায়।
এতে ঘুষ, বিলম্ব, হয়রানি- সব স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধরা পড়বে।
৮.২ ওপেন অ্যাডমিন ডেটা ড্যাশবোর্ড
প্রত্যেক দপ্তর মাসিকভাবে প্রকাশ করবে—
-মোট আবেদন
-কত দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছে
-কত অভিযোগ এসেছে
-কোন কর্মকর্তা দেরি করেছেন
-কোন সেবা আটকে আছে
এগুলো জনসাধারণ, সাংবাদিক, গবেষক—সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
৮.৩ ডিজিটাল কিউ–ট্র্যাকিং সিস্টেম
প্রত্যেক নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে একটি ট্র্যাকিং নম্বর পাবেন।
রিয়েল–টাইমে দেখা যাবে—
তার ফাইল কোথায়, কেন দেরি হচ্ছে, কোন কর্মকর্তা দায়ী।
৮.৪ AI–ভিত্তিক দুর্নীতি সতর্কতা (Red Flag System)
AI স্বয়ংক্রিয়ভাবে নজর রাখবে—
অস্বাভাবিক বিলম্ব
একই কর্মকর্তা নির্দিষ্ট অভিযোগে পুনরাবৃত্তি
অনিয়মের প্যাটার্ন
ঘুষ–সন্দেহযুক্ত আচরণ
দুর্নীতি ধরা পড়বে মানুষ নয়, প্রযুক্তির মাধ্যমে।
৮.৫ নাগরিকের গোপনীয়তা সুরক্ষা
স্বচ্ছতা হবে রাষ্ট্রের,
কিন্তু নাগরিকের ব্যক্তিগত ডেটা—সর্বোচ্চ গোপনীয়তায় সুরক্ষিত।
সংক্ষেপে – আমাদের রাজনৈতিক দর্শন ৫টি স্তম্ভে দাড়ানো (Foundational Pillars):
১. মানবাধিকার
প্রতিটি মানুষের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা অটুট রাখা।
রাষ্ট্রের প্রথম ও চূড়ান্ত দায়বদ্ধতা-মানুষের জীবন, মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
২. গণতন্ত্র ও জবাবদিহি
আইনের শাসন ও জনগণের ক্ষমতায়ন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ,
এবং সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের স্পষ্ট জবাবদিহি।
৩. দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র
সেবা, বরাদ্দ, প্রশাসন- সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা।
ঘুষ, অনিয়ম, অবৈধ সুবিধার ব্যাপারে শূন্য সহনশীলতা।
৪. সহিংসতামুক্ত রাজনীতি
রাজনীতি হবে যুক্তির, নৈতিকতার, এবং সংলাপের
সমাধান হবে ভোটে, সংসদের আইন দিয়ে; কখনোই সহিংসতা দিয়ে নয়।
৫. ডিজিটাল সুশাসন ও স্বচ্ছ প্রশাসন
সরকারি সেবার ওপেন ডেটা সিস্টেম, ভিডিও রেকর্ডিং,
ডিজিটাল ট্র্যাকিং, AI–ভিত্তিক জবাবদিহি,
অর্থাৎ, প্রশাসন হবে জনতার কাছে সম্পূর্ণ দৃশ্যমান- ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত।
তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের ব্যাপারে আমাদের দলীয় অবস্থানঃ
১। আমরা গ্যারান্টি দিচ্ছি আমাদের দলে তৃণমূল পর্যায়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে।
২। আমরা গ্যারান্টি দিচ্ছি মাঠ পর্যায়ে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে সকল দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।
৩। আমরা গ্যারান্টি দিচ্ছি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণের ক্ষেত্রে ত্যাগী নেতা কর্মীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
৪। আমাদের দলে মাঠ পর্যায়ে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে বহিরাগত কেউ হঠাৎ করে এসে গুরুত্বপূর্ণ পদ পদবী টাকা দিয়ে বাগিয়ে নেয়ার সুযোগ পারবেনা। আমরা গ্যারান্টি দিচ্ছি।
আমাদের প্রথম কথাই হচ্ছে আমাদের দলের প্রত্যেকেই
১. একই রকম মানসিকতার একই চিন্তাভাবনার বা সমমনা হতে হবে,
২. সহনশীল হতে হবে, আইন মেনে চলার মানসিকতা থাকতে হবে।
৩. ভিন্নমতে সহিষ্ণুতা– পরমতসহিষ্ণু অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাসী মানুষ হতে হবে।
এই ৩টা জায়গায় ঠিক না থাকলে, আমরা একমত না হতে পারলে এই দলের সাথে আপনি এডজাস্ট করতে পারবেন না, সেক্ষেত্রে আপনি দলে না আসলেই ভালো হবে।
আমার দলের টপ টু বটম একইরকম সমমনা হলে- সভ্য, শিক্ষিত, সৎ, দেশপ্রেমিক, সুশৃংখল হলে এই দল অবশ্যই নির্বাচনে জয়লাভ করবে।
আপনি ইচ্ছা করলে শুধু সমর্থক হিসেবেও থাকতে পারেন।
কিন্তু সক্রিয় সদস্য হিসেবে দলে দলে যোগদানের আগে আমাদের রাজনৈতিক আদর্শিক অবস্থান গুলো পড়ুন, আগে দেখুন আপনি প্রত্যেকটি আদর্শিক অবস্থানের দফাগুলোর সাথে একমত কিনা, তারপরে সিদ্ধান্ত নিনঃ
আমাদের আদর্শ এবং এজেন্ডা হচ্ছেঃ
আমাদের আদর্শ এবং রাজনৈতিক এজেন্ডা হচ্ছেঃ
১। যুক্তি ও জ্ঞান-ভিত্তিক একটি প্রগ্রেসিভ সমাজ বিনির্মাণ এবং দেশপ্রেমিক, উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক সমাজ গঠন করা,
২। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ যেখানে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে কোন দায়িত্বশীল ব্যাক্তি দুর্নীতি করার সুযোগ পাবেনা এবং,
৩। সহিংসতা এবং সন্ত্রাসমুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ বিনির্মাণ যেখানে নানা কারনে প্রান্তিক হয়ে যাওয়া এবং শান্তিপ্রিয় ভদ্রলোকদেরও রাজনীতিতে এক্সেস থাকবে।
আমাদের স্লোগানঃ
দুর্নীতিমুক্ত দেশ সন্ত্রাসমুক্ত রাজনীতি
বাংলা, বাঙালি, বাংলাদেশ।
রাজনীতি হোক দুর্নীতিমুক্ত, রাজনীতি হোক জনসেবার।
ভালো মানুষদের ক্ষমতায়ন চাই।
সমৃদ্ধি- প্রগতি- মর্যাদা।
আমরা সবাই এগিয়ে যাব একসাথে,
আমরা সবাই ধনী হবো একসাথ্
আমাদের সবার সম্মান বাড়বে একসাথে,
একাত্তরের যুক্তি, গরীবের মুক্তি।
আইনের শাসন ও জনগণের ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
আমাদের রাজনৈতিক আদর্শিক অবস্থানের ১৩ দফাঃ
১ নম্বর দফাঃ জনগনকে দেয়া ওয়াদা নির্বাচনী পূরণ করতে ব্যার্থ হলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের মানসিকতা থাকতে হবে। মনে রাখবেন এই দল যারা প্রতিষ্ঠা করছে তারা জনগনের নিকট প্রদেয় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার থেকে, জনগণের বিশ্বাসের অমর্যাদা করার থেকে পদত্যাগকে শ্রেয়তর মনে করে। আমরা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে পদত্যাগের সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী।
২ নম্বর দফাঃ এই দল কেন গঠন করা হয়েছে?
চেঞ্জ মেকার পার্টি (সিএমপি) একটি পূর্ণ গণতন্ত্রের (Full Democracy) বাংলাদেশ প্রত্যাশী। টাকার বিনিময়ে দল করবে এমন মানুষদের জন্য আমাদের দল না। আমরা কোন টিপিক্যাল টাকা কামানোর রাজনৈতিক দল নই। এই দল গঠন করা হয়েছে নির্বাচনের আগে এবং পরে বিনা পারিশ্রমিকে স্বেচ্ছাসেবার জন্য এবং নির্বাচনে বিজয় লাভের পরে মানবসেবা এবং দেশের সেবা জন্য।
আমরা চেঞ্জ মেকার পার্টি (সিএমপি) প্রধানত একটি দুর্নীতিবিরোধী বিশেষায়িত রাজনৈতিক দল। আমরা জনসেবামুখী, পূর্ণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন, এবং পূর্ণ গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী, মধ্য-বাম ধারার, উদার প্রগতিশীল আধুনিকতাবাদী রাজনৈতিক দল।
সততা, মানবসেবা আর দেশপ্রেম এই ৩টা গুন আছে এমন সকল বাংলাদেশীদের আহ্বান জানাচ্ছি আমাদের দলে।
আমাদের দলের প্রধান বৈশিষ্ট হলোঃ
১। প্রতিটি ভোটারের অন্তত একটি ব্যাক্তিগত সমস্যার সমাধান করা।
এবং,
২। দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান।
১। আমরা আমাদের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই এদেশের ১২ কোটি ৭০ লক্ষ ভোটারের সাথে একবার হলেও কথা বলতে চাই। তাদের ব্যাক্তিগত সমস্যাগুলো আমাদের নোটবুকে রেকর্ড করে রাখতে চাই যেন নির্বাচনে জয়লাভের পরে আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি। কেউ এটিকে অদ্ভুত অসম্ভব বলবেন, কেউ বলবেন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ নির্বাচনী ক্যাম্পেইন যেটি আগে কেউ করেনি ইত্যাদি। কিন্তু এটি আমরা করতে চাই জনগণের স্বার্থে।
আমরা শুধু তাদের ব্যাক্তিগত সমস্যাই লিপিবদ্ধ করবনা। আমরা ১২ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটারকে সচেতন করতে চাই। একবার হলেও তাদেরকে বলতে চাই যে নিজের ভোটটা বিক্রি করবেন না। ভোট বিক্রি করা মানে দেশকে বিক্রি করা, গনতন্ত্রকে বিক্রি করা, স্বাধীনতাকে বিক্রি করা। তাই কারও ভয়ভীতি, টাকা পয়সার লোভ বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করে দেশকে বিক্রি করবেন না।
২। আমরা আসলেই দুর্নীতিবিরোধী কিনা সেটি জনগণের নিকট বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে আমাদের সকল এমপি প্রার্থীদের নিজেদের ব্যাক্তিগত সম্পত্তির তথ্য এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট এ লেনদেনের হিসাব সবকিছু জনগণের নিকট উন্মুক্ত করার মানসিকতা থাকতে হবে।
আমাদের এমপি সাহেবের বাড়িতে কালোটাকা আছে কিনা কোন নাগরিক যদি আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে সেটি যাচাই করতে চায় নির্বাচনে জয়লাভের পরে সেটির যাচাইয়ের জন্য নাগরিককে এমপির বাড়িতে অবাধে আকস্মিক পরিদর্শন করার প্রতিশ্রতি এবং সুযোগ দেয়া হবে।
আমরা নতুন বা পুরাতন অন্য কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্ট নই। আমরা অন্য কোন দলের সাথে কখনো জোট করবো না। আমরা একটি দুর্নীতিবিরোধী রাজনৈতিক দল। দুর্নীতি বিরোধীতাই আমাদের মূল রাজনীতি।
বাংলাদেশের পুরাতন দল কিংবা নতুন দল- কারা আসলেই দুর্নীতিবিরোধী?
আমরা পূর্ণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মধ্য-বাম ধারার দল। পূর্ণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উদাহরণ যেমনঃ বাকস্বাধীনতা, ভিন্নমতে সহনশীলতা ইত্যাদি। পূর্ণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এমন যেকোন দলই কিছুটা বাম ঘেষা হবে এটাই স্বাভাবিক। নব্বইয়ের তথাকথিত “গণতান্ত্রিক যাত্রা” পরবর্তী সময়ে এদেশের প্রধান প্রধান দলগুলোর বিগত বছরের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে আপনার কি মনে হয় যে তারা বাকস্বাধীনতা, ভিন্নমতে সহনশীল হতে পেরেছে? কিছুটা বাম ঘেষা হলেই কেউ কোন নির্দিষ্ট পুরনো দলের পক্ষের হয়ে যায় না। তাহলে আমরা কিভাবে পুরনো কোন দলের পক্ষের হই? না জেনে শুধু আন্দাজের ভিত্তিতে আমাদের অন্য কোন দলের সাথে ট্যাগ দিবেন না। এটা খুবই আপত্তিকর।
আমরা অতীতে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলাম না। চেঞ্জ মেকার পার্টিই আমাদের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ। আমাদের স্বপ্ন। আমরা অন্য কোন দলে কখনোই যাবো না। চেঞ্জ মেকার পার্টি নির্বাচনের সুযোগ না পেলে প্রয়োজনে “না” ভোট দেবো। তবুও এই দলের সাথেই থাকব।
আমরা অন্য কোন দলের সাথে কখনো জোট করবো না। আমরা কোন বড় দলের অধীনতায় থাকবো না, আমরা অন্য কোন দলের নিয়ন্ত্রণে চলবো না। আমরা স্বাধীন থাকবো কারন আমাদের স্বপ্ন বড় দল হওয়া।
৩ নম্বর দফাঃ কারা আমাদের দলের সদস্য হবার জন্য উপযুক্ত?
আমরা ভালো মানুষদের ক্ষমতায়ন চাই।
৩ এর ক) কোন অবস্থাতেই দুর্নীতি সন্ত্রাস সহিংসতায় জড়িত হওয়া যাবেনা। পাশাপাশি আমাদের দলের পক্ষে নির্বাচনে প্রার্থী হলে আপনি যে সৎ, দেশপ্রেমিক সেটি প্রমানের জন্য আপনার নিজের এবং আপনার স্বামী/ স্ত্রী ও সন্তানদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য, আপনার ও পরিবারের সম্পত্তির তথ্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। এবং নির্বাচিত হবার পরেও এগুলো জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। আপনি নির্বাচিত হবার কোন নাগরিক আপনার কাছে দুর্নীতির অর্থ আছে কিনা সেটি যাচাইয়ে উদ্দেশ্যে আপনার উপস্থিতিতে আপনার বাড়িতে যদি আকস্মিক পরিদর্শন বা সারপ্রাইজ অডিট করত চায় আপনাকে তাকে সেই সুযোগ দিতে হবে (শুধুমাত্র নির্বাচনের প্রার্থী হবার জন্য প্রযোজ্য)।
৩ এর খ) যারা ভিন্নমতে সহিষ্ণু মানুষ, যারা আইন মেনে চলতে চান, যারা বিনা পারিশ্রমিকে নিঃস্বার্থভাবে অন্তত কিছু বছর দেশের জন্য কাজ করতে চান, যারা গনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে দেশকে প্রগতি এবং উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন, যারা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েও দুর্নীতিবিরোধী থাকবেন, নির্বাচনী ওয়াদা পুরনে মরিয়া চেষ্টা করবেন এই দল তাদের জন্য।
৪ নং দফাঃ আমাদের দলের সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে “সমমনা” হতে হবে।
কেন সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে “সমমনা” হতে হবে?
আমাদের দলের জন্ম থেকেই প্রতিটি কর্মী হবেন দুর্নীতিবিরোধী, সুশিক্ষিত, মেধাবী, সৎ, দেশপ্রেমিক, উচ্চ মূল্যবোধ সম্পন্ন। এমন ১ লক্ষ স্বপ্নবাজ, সোনার টুকরো মানুষ দিয়ে এই দল গঠিত হলে, আমরা যদি শুরু থেকেই রুট লেভেল থেকে ১ লক্ষ স্বপ্নবাজ, সভ্য, শিক্ষিত, সৎ, দেশপ্রেমিক, সুশৃংখল ব্যাক্তিদের নিয়ে এই দল গঠন করতে পারি এই দল কখনো বেকায়দায় পড়বেনা। আমার দলের টপ টু বটম একইরকম সমমনা হলে- দুর্নীতি বিরোধী, সভ্য, শিক্ষিত, সৎ, দেশপ্রেমিক, সুশৃংখল হলে এই দল অবশ্যই নির্বাচনে জয়লাভ করবে।
৫ নং দফাঃ গণতন্ত্র, ভারত- পাকিস্তান, বাংলাদেশি হিন্দু, ইসলাম, ধর্ম, ভিন্নমত, প্রথাবিরোধী ব্যক্তি ও সংগঠন, বাঙালি সংস্কৃতি, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের মতো রাজনৈতিক মেরুকরণের ইস্যুগুলোতে আমাদের অবস্থান কি?
এসকল ইস্যুতে আমরা রাজনৈতিক মেরুকরণের বিরুদ্ধে। আমরা মনে রাজনৈতিক মেরুকরণ একটি অপরাজনীতি। আমরা অপরাজনীতির বিপক্ষে, জনস্বার্থে ভালো রাজনীতির পক্ষে।
আমরা ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই, সারা বিশ্বে ইসলামকে গ্রহনযোগ্য করতে চাই। আমরা ইসলামের বন্ধু।
আমাদের দলে ইসলামী মূল্যবোধ সম্পন্ন সৎ, নামাজি ও আধুনিক মনের মানুষদের স্বাগত জানানো হবে, উদারপন্থী আলেম সমাজকে আমাদের দলে স্বাগতম। পাশাপাশি হিন্দু-মুসলিম, নির্বিশেষে সকল ভিন্নমতাবলম্বী, অসাম্প্রদায়িক চেতনার এবং উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষ, বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী, মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এমন মানুষদেরকেও এই দলে সম্মানিত করা হবে।
আমরা বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, কারন আমরা বাংলাদেশপন্থী। মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের ভিত্তি, মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ অর্জন।
মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিষয়ে আমাদের ঘোষণা
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল স্পষ্টভাবে মানবাধিকারভিত্তিক এবং সাম্যবাদী। এই চেতনার কেন্দ্রে ছিল মানুষের মর্যাদা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বৈষম্যহীন সমাজ, শোষণমুক্ত রাষ্ট্র, বাঙালিসহ সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার, ধর্মীয় ভেদভেদাহীন অসাম্প্রদায়িক সমান নাগরিকত্ব এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। মুক্তিযুদ্ধের দর্শনে সবার আগে ছিল মানুষ, তার মৌলিক অধিকার এবং জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।
দুঃখজনকভাবে, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও এই মৌলিক আদর্শগুলো পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের যথার্থ ও প্রকৃত চেতনা কেবল একটি আবেগের রাজনীতির বিষয় নয়; আমরা সেই চেতনা বাস্তবায়ন করতে চাই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শিক নীতিগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে।
আমরা বাঙালি জাতীয়তাবাদের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে সমর্থন করি এবং বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার সুরক্ষায় আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিই, কারণ এই ভাষা ও সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক সহাবস্থান, লোকাচার, বহুত্ববাদী জীবনধারা ও পারস্পরিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে। একই সঙ্গে আমরা বাঙালিসহ সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষা-সংস্কৃতির স্বাধিকার, বৈচিত্র্য ও সমান মর্যাদার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করি।
আমরা ভারতপন্থী নই, আমরা পাকিস্তানপন্থী নই। আমরা বাংলাদেশপন্থী। আমরা ভারত, আইএসআই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্কসহ বৈশ্বিক যেসকল সাম্রাজ্যবাদী শক্তি অতীতে গণতন্ত্র, নির্বাচনসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে তাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি মনে করি এবং হিন্দুত্ববাদ, একদলীয় কমিউনিস্ট শাসন, সেনাশাসন, একক ইসলামি রাষ্ট্রের খেলাফত প্রতিষ্ঠাসহ সকল ধর্মভিত্তিক এবং অগণতান্ত্রিক শাসনকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখন্ডতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করি। আপনি যদি আইএসআই, সিআইএ বা RAW এর এজেন্ট হোন বা হিন্দুত্ববাদী হোন তাহলে আমাদের দল আপনার জন্য নয়। তবে হা, যদি দেশসেবার সুযোগ হয় বাংলাদেশে বসবাসরত প্রতিটি হিন্দুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায়, হিন্দুদের জানমালের নিরাপত্তায় এবং বেদখল জমি উদ্ধারে আমাদের সবার আগে পাবেন।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে চাই বাংলাদেশপন্থী রাজনৈতিক শক্তি। এমন শক্তি, যারা বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে দেশের স্বার্থে, কিন্তু কোনো উগ্র জাতীয়তাবাদ বা বিদেশি রাষ্ট্রবিদ্বেষের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেবে না।
বিদেশি সম্পর্ক ও চুক্তির ক্ষেত্রে যাদের অবস্থান হবে স্বচ্ছ, যাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে থাকবে খোলামেলা আলোচনা, সংসদীয় ও নাগরিক শুনানি, এবং নাগরিক সমাজের কাছে জবাবদিহি। এই স্বচ্ছতাই বিদেশি আধিপত্যবাদের একমাত্র কার্যকর প্রতিরোধ বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
আমরা ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও নৈতিক অনুশীলনের ক্ষেত্র। ইসলামসহ সকল ধর্মের বিশ্বাস, চর্চা ও আকিদার প্রতি আমরা পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। ধর্মের শান্তিপূর্ণ, অরাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত চর্চা রাষ্ট্রের সুরক্ষার আওতায় থাকবে – যতক্ষণ না তা অন্য কোনো মানুষের মানবাধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা বা সমান মর্যাদাকে অস্বীকার করে বা শত্রুজ্ঞান করে। রাষ্ট্র কোনো বিশ্বাসকে অন্য মানুষের অধিকার হরণ বা বৈষম্যের অস্ত্র হতে দেবে না।
আমরা ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। এদেশের মানুষের ধর্মীয় আবেগকে আমরা সম্মান করি। ইসলাম ধর্ম, আল্লাহ রসুল ও কুরআন মজিদ সম্পর্কে আমরা শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্বশীল ভাষা অনুসরণ করি। তবে ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানিয়ে ক্ষমতা, বিভাজন, মেরুকরণ, ঘৃণা ছড়ানো বা রাজনৈতিক বিদ্বেষ তৈরির রাজনীতিকে আমরা সমর্থন করি না। ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সমাজে মেরুকরণ তৈরি করা হলে সব ধরনের মত ও বিশ্বাসের মানুষের জন্য রাজনীতির সমান লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হয়ে যায়। আমরা তাই ধর্মকে ব্যবহার করে তালেবান বা খোমেনি-ধাঁচের কোনো একনায়কতান্ত্রিক, একদলীয় বা যেকোনো অগণতান্ত্রিক শাসনের বিপক্ষে অবস্থান করি। আপনি নামাজি হতে পারেন, হিজাবি হতে পারেন, ইমাম বা আলেম হতে পারেন – আমাদের দলে আপনাকে স্বাগতম। তবে রাজনৈতিক পরিসরে আপনাকে অবশ্যই গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সকল নাগরিকের সমান মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।
যেমন ধরুন আমরা আমাদের সংগঠনের নারীদের হিজাব পড়তে অনুরোধ করতে পারব, পুরুষদের নামাজের জন্য অনুরোধ করতে পারব, আলোচনার সময় আজান হলে আলোচনা বন্ধ রাখতে পারব, নামাজের জন্য ব্রেক দিব কিন্তু কেউ হিজাব পড়বেন কিনা, বা কেউ নামাজে অংশ নিবেন কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেবার স্বাধীনতা একান্তই সেই নারীর বা পুরুষের। কারন এটা তার ব্যাক্তি স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়, আমরা প্রতিটি গণতান্ত্রিক মুল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বাংলার সমাজে ইসলাম যদি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মতভিন্নতার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সহনশীল ও শ্রদ্ধাশীল থাকে, তবে গণতন্ত্র সেই ইসলামি চর্চা ও মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সুরক্ষা দেবে। আমাদের সংগঠনের কোন ড্রেস কোড নেই বা ধর্মীয় কোন নিয়ম কানুন পালনের কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
আমরা প্রত্যাশা করি যে সম্মানিত আলেম ওলামা সমাজ ইসলাম যে শান্তির ধর্ম- সেটি প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে শান্তিপূর্ণ ও অরাজনৈতিক দাওয়াতি কার্যক্রম এবং ওয়াজ মাহফিলের মধ্যে ধর্মকে সীমাবদ্ধ রাখবেন যেটি শত শত বছর ধরে এদেশে প্রচলিত রয়েছে এবং তারা কওমি মাদ্রাসার রাজনৈতিকরণ, কট্টরপন্থী ওয়াহাবি আন্দোলন প্রচার করা বা ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠা ও এর জিহাদী কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করবেন কারন এগুলো সারা পৃথিবীতে ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা সৃষ্টি করে, ইসলামের ভাবমূর্তি নষ্ট করা ছাড়া এবং মুসলমানদের পশ্চাৎপদ বানানো আর কিছু করছে বলে আমরা মনে করিনা।
আমরা ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সব নাগরিককে সমান মর্যাদায় বিশ্বাসী। রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে ব্যবহার করবে না, কেবল মানবাধিকার ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে চলবে। এটি আমাদের সেকুলার নীতি।
বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা কেন বাস্তবিক প্রয়োজন?
বাংলাদেশ একটি বহুধর্মী ও বহুমাত্রিক সমাজ, যেখানে হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান হাজার বছরের ঐতিহ্য। এখানে মুসলমান আছে, হিন্দু আছে, বৌদ্ধ আছে, খ্রিস্টান আছে, আবার এমন মানুষও আছে যারা কোনো ধর্ম মানে না। রাষ্ট্র যদি একটি বিশ্বাসকে নিজের পরিচয় বানায়, তাহলে বাকি সবাই স্বাভাবিকভাবেই পর হয়ে যায়। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় মৌলিক প্রশ্নটি হলো- কার ধর্ম রাষ্ট্রীয় প্রাধান্য পাবে। সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মকে রাষ্ট্রধর্মে রূপ দেওয়া গণতন্ত্র নয়; এটি সংখ্যাগত আধিপত্যের এক রূপ। ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার বানালে বাংলাদেশে সহিংসতা বাড়ে, সংখ্যালঘু নির্যাতিত হয় এবং মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার সংকুচিত হয়। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হলো রাষ্ট্র বিশ্বাসের বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকবে, মানুষ বিশ্বাসে স্বাধীন থাকবে, আর আইন থাকবে ধর্মীয় কর্তৃত্ব থেকে স্বাধীন। এই ব্যবস্থায় মসজিদ নিরাপদ, মন্দির নিরাপদ, গির্জা ও প্যাগোডাও নিরাপদ, এবং মতভিন্নতাও নিরাপদ। আসল প্রশ্ন ধর্মের অস্তিত্ব নিয়ে নয়। আসল প্রশ্ন হলো, ধর্মের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে: মানুষের বিবেকের হাতে, না রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার হাতে। এই সীমারেখা স্পষ্ট হলেই চিন্তা বাঁচবে, শিক্ষা মুক্ত হবে, রাষ্ট্র মানবিক হবে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র মানে কম দাঙ্গা, বেশি নিরাপত্তা। এখানে সংখ্যালঘু, ভিন্নমত, সব বিশ্বাস নিরাপদ থাকে, বিনিয়োগে আস্থা তৈরি হয়, আর তরুণদের ভবিষ্যৎ খুঁজতে দেশ ছাড়তে হয় না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট বিশ্বাসের পৃষ্ঠপোষকতা করা নয়, বরং সব নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও নৈতিকতার উৎস। রাষ্ট্রের কাজ আইন প্রণয়ন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা করা। এই দুই ক্ষেত্র এক হলে ধর্ম রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত হয় এবং রাষ্ট্র পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের সমস্যা শিক্ষার অভাব না, চিন্তার অভাব। ডিগ্রি আছে, কিন্তু প্রশ্ন করার সাহস নেই। আজ এমন একটা সমাজ তৈরি হয়েছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়-পড়া মানুষও ভাবে ধর্মীয় কর্তৃত্ব মানেই নৈতিক কর্তৃত্ব। এই ধারণাটাই সবচেয়ে ভয়ংকর। এখানে প্রশ্ন করা মানেই “ধর্মবিরোধিতা”, ভিন্নমত মানেই “ঈমানের দুর্বলতা”। এই জায়গাতেই বুদ্ধিবৃত্তিক পরাজয়। এই শূন্যতার ভেতরেই ধর্ম ধীরে ধীরে নৈতিকতার জায়গা ছেড়ে ক্ষমতার ভাষা হয়ে উঠেছে। এই কারণেই “সুশীল” শব্দটা গালি হয়েছে, কারণ তারা মানবাধিকার আর ন্যায়বিচারের কথা বলেছে, কিন্তু তারা ক্ষমতার কাঠামো ভাঙতে পারেনি। এই ব্যর্থতার সুযোগেই ধর্মীয় রাজনীতি বলেছে, “আমরাই সত্য, বাকিরা ব্যর্থ।” কিন্তু আসল দ্বন্দ্ব ধর্ম বনাম মানবাধিকার না। আসল দ্বন্দ্ব বিশ্বাস বনাম কর্তৃত্ব। একদিকে আছে ধর্মকে নৈতিকতা হিসেবে দেখা মানুষ, আরেকদিকে আছে ধর্মকে ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা গোষ্ঠী। এই লড়াইয়ে নিরপেক্ষ থাকা যায় না, কারণ এখানে লড়াইটা মতের নয়, লড়াইটা ক্ষমতার অপব্যবহার আর মানবিক নৈতিকতার মধ্যে। একপক্ষ বিশ্বাস, আরেকপক্ষ ক্ষমতা।
সুতরাং এই জায়গাটি গভীরভাবে আত্মজিজ্ঞাসা ও উপলব্ধি করা জরুরি যে, এখানে একদিকে আছে ধর্মকে নৈতিকতা হিসেবে দেখেন এমন মানুষ, আর অন্যদিকে আছে ধর্মকে ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা গোষ্ঠী।
ধর্মকে নৈতিকতা হিসেবে দেখার মানে মানুষের চরিত্র, সহমর্মিতা, আত্মসংযম। ধর্মকে ক্ষমতার সিঁড়ি বানানো মানে রাষ্ট্র দখল, ভয়, আনুগত্য আদায়, ভিন্নমত দমন। এই দুইয়ের মাঝে “মাঝামাঝি” অবস্থান বলে কিছু নেই। যে পক্ষ ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানায়, তারা সংগঠিত, আক্রমণাত্মক ও প্রভাবশালী। আপনি যদি বলেন “আমি নিরপেক্ষ”, বাস্তবে আপনি তাদের কাজ থামাচ্ছেন না। নিরপেক্ষতা তখন ক্ষমতার অপব্যবহারকে নীরব সমর্থন হয়ে দাঁড়ায়। এটা মতভেদ নয়, নৈতিক সীমার প্রশ্ন। এটা “কে কিভাবে নামাজ পড়ে” সেই বিতর্ক নয়। এটা ধর্ম কি মানুষের বিবেক গড়বে, নাকি শাসনের চাবুক হবে? সেই প্রশ্ন। এটা রাষ্ট্র কি অধিকার রক্ষা করবে, নাকি বিশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করবে? সেই প্রশ্ন। ধর্মের ভূমিকা কী হবে? ধর্ম কি মানুষের ভেতরের নৈতিক বোধ, বিবেক, সহমর্মিতা আর দায়িত্ববোধ তৈরি করবে, নাকি সেটাকে ব্যবহার করা হবে শাসন, ভয়, দমন আর নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে। রাষ্ট্রের ভূমিকা কী হবে? রাষ্ট্র কি মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করবে, নাকি ধর্মরাষ্ট্রের মতো মানুষের বিশ্বাস, চিন্তা ও ব্যক্তিগত বিবেককে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা নিজের হাতে নেবে।
এই জায়গায় নিরপেক্ষ থাকা মানে- অন্যায় আর ন্যায়ের মাঝে চোখ বন্ধ করে থাকা।
অনেক ধর্মীয় নেতা ধর্মকে ভালোবাসার জায়গা হিসেবে দেখে না, ধর্মকে দেখে নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র হিসেবে। আলেম হওয়া তাদের স্বপ্ন না, নৈতিক পথপ্রদর্শক হওয়া তাদের স্বপ্ন না। তাদের স্বপ্ন আমির হওয়া, খলিফা হওয়া, রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হওয়া। এই কারণেই ধর্ম এখানে ব্যবসা হয়, এবং ব্যবসা সফল হয়।
বিশ্বাস ব্যক্তিগত থাকলে ধর্ম পবিত্র থাকে। ধর্ম রাষ্ট্রীয় হলে ধর্ম ক্ষমতার অস্ত্র হয়ে যায়। এই দেশের অধিকাংশ মানুষ ধার্মিক, এবং সমস্যা ধর্মে নয়, ধর্মকে ক্ষমতার সিঁড়ি বানানোয়। সমস্যা শুরু হয়, যখন ধর্ম দিয়ে বলা হয় কে কথা বলবে, কে চুপ থাকবে, কে নাগরিক, কে বেঁচে থাকবে, কে হত্যাযোগ্য। আজ ধর্ম এদেশে বিশ্বাসের জায়গায় নয়, ধর্ম হয়েছে সামাজিক ক্ষমতার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
এই কারণেই ধর্মব্যবসায়ীরা ধর্মনিরপেক্ষতাকে ঘৃণা করে, কারণ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে ধর্ম দিয়ে ক্ষমতা নেওয়া যায় না।
ধর্মনিরপেক্ষতা বলে রাষ্ট্র কোনো ধর্মের পক্ষ নেবে না, আর এই কথাটাই ধর্মব্যবসায়ীদের জন্য ভয়ংকর।
কারণ তাহলে ধর্ম থাকবে বিশ্বাসে কিন্তু ক্ষমতা থাকবে আইনে- এটাই তারা চায় না।
তাদের আসল সাফল্য হলো- ধর্মীয় কর্তৃত্বকে বুদ্ধিবৃত্তিক মর্যাদা বানিয়ে ফেলা।
আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম মানুষের অন্তরের বিষয়, আর রাষ্ট্র মানুষের অধিকার রক্ষার যন্ত্র। এই দুইটি এক হয়ে গেলে ধর্ম তার নৈতিকতা হারায়, আর রাষ্ট্র ক্ষমতার অপব্যবহারের পথে হাঁটে। যেদিন রাষ্ট্র বিশ্বাসের বিচার বন্ধ করবে, সেদিনই ধর্ম আবার নৈতিকতার জায়গায় ফিরবে।
আমরা এমন বাংলাদেশ চাই,
যেখানে রাষ্ট্র কারো বিশ্বাসের বিচার করবে না, কিন্তু কারো অধিকার লঙ্ঘনও করতে দেবে না।
রাষ্ট্র নিরপেক্ষ হবে, আইন মানবিক হবে, আর মানুষ হবে স্বাধীন।
বিশ্বাস ব্যক্তিগত। রাষ্ট্র সবার। আইন মানুষের জন্য।
ধর্মনিরপেক্ষতা আমাদের কাছে ধর্মহীনতা নয়।
ধর্মনিরপেক্ষতা মানে-
- রাষ্ট্র বিশ্বাস-নিরপেক্ষ থাকবে
- আইন সকলের জন্য সমান হবে
- কোনো নাগরিকের অধিকার তার বিশ্বাসের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে না
আমরা বিশ্বাস করি, ধর্মের স্থান বিশ্বাস ও নৈতিকতায়; রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের কৌশল হিসেবে ধর্মের ব্যবহার আমরা প্রত্যাখ্যান করি। এই প্রবণতা শুধু রাষ্ট্রকেই নয়, ধর্মকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। রাষ্ট্রের ধর্ম থাকা মানে ধর্ম শক্তিশালী হওয়া নয়। রাষ্ট্রের ধর্ম থাকা মানে ধর্ম রাজনীতির খেলনা হওয়া। ধর্ম মানুষকে ভালো হতে শেখায়, আর রাষ্ট্র মানুষকে নিরাপদ রাখে।
এই দুইটা গুলিয়ে ফেললেই সমস্যা শুরু হয়। ধর্ম মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, রাষ্ট্র মানুষকে সুরক্ষা দেয়—দুটো এক নয়, দুটো পরস্পরের শত্রুও নয়। ধর্ম মানুষের ভেতরের নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ, সংযম, সহমর্মিতা তৈরি করে। এটি কাজ করে অন্তরের ওপর।
রাষ্ট্র কাজ করে বাহ্যিক বাস্তবতায়-আইন, নিরাপত্তা, অধিকার, ন্যায়বিচার।
রাষ্ট্রের কাজ মানুষকে “ভালো বানানো” নয়, মানুষকে নিরাপদ ও সমান অধিকারসম্পন্ন রাখা।
রাষ্ট্র ভালো বা মন্দ হয় না। রাষ্ট্র ন্যায়সঙ্গত বা অন্যায় হয়।
ধর্ম ভালো বা মন্দ হয় না।
ধর্ম নৈতিক অনুপ্রেরণা দেয়।
ভালো–মন্দ মূলত নৈতিক মূল্যায়ন।
আমরা যখন নিজেকে প্রশ্ন করি মানুষ হিসেবে কাজটা কেমন? এতে সহমর্মিতা, দয়া, সততা আছে কি? আমার বিবেক এতে কী বলে?
তখন আমরা ভালো মন্দ নির্ধারণ করি। ভালো–মন্দের বিচার হয় ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিবেকের স্তরে।
ধর্ম, সংস্কৃতি, পারিবারিক শিক্ষা এখানে বড় ভূমিকা রাখে।
ন্যায়সঙ্গত–অন্যায় কী?
ন্যায়সঙ্গত–অন্যায় হলো আইন ও অধিকারভিত্তিক বিচার। এটি প্রশ্ন করে
এই কাজ কি সবার জন্য সমান?
এতে কারও অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কি?
রাষ্ট্র ও সমাজের নিয়ম অনুযায়ী এটা বৈধ কি না?
উদাহরণ:
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া ন্যায়সঙ্গত
বিচার ছাড়া কাউকে শাস্তি দেওয়া অন্যায়
সংখ্যালঘুকে সুরক্ষা দেওয়া ন্যায়সঙ্গত
বৈষম্যমূলক আইন করা অন্যায়
ন্যায়–অন্যায়ের বিচার হয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয়-আইন, আদালত, সংবিধান।
সমস্যা শুরু হয় তখনই,
যখন রাষ্ট্র মানুষকে “ভালো বানাতে” নামে,
আর ধর্ম মানুষকে শাসন করতে চায়।
ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্ম বাদ দেওয়া না।
ধর্মনিরপেক্ষতা মানে রাষ্ট্রকে ধর্মের নামে অন্যায় করার লাইসেন্স না দেওয়া।
আমাদের লক্ষ্য একটি এমন বাংলাদেশ,
যেখানে বিশ্বাস থাকবে মুক্ত,
রাষ্ট্র থাকবে নিরপেক্ষ,
এবং নাগরিক থাকবে মর্যাদাবান।
রাষ্ট্রের কাজ ধর্মীয়স্থান বানানো না, রাষ্ট্রের কাজ স্কুল বানানো।
রাষ্ট্রের কাজ ফতোয়া দেওয়া না, রাষ্ট্রের কাজ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
রাষ্ট্রের কাজ মানুষকে কী বিশ্বাস করবে সেটা ঠিক করা না, রাষ্ট্রের কাজ মানুষকে নিরাপদ রাখা।
যে রাষ্ট্র এক ধর্মের পক্ষ নেয়, সে রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত সেই ধর্মকেও রাজনীতির অস্ত্রে পরিণত করে। ইতিহাস আমাদের সেটাই দেখিয়েছে। ধর্ম রাজনীতির হাতিয়ার হলে ধর্মের মর্যাদা থাকে না, থাকে শুধু ভয়।
ধর্ম নয়, অধিকার হোক রাষ্ট্রের ভিত্তি।
রাষ্ট্র হোক নিরপেক্ষ, বাংলাদেশ হোক নিরাপদ।
ধর্ম, আইন ও রাষ্ট্র: কেন পৃথকীকরণ অপরিহার্য?
আইনের স্বভাব হলো প্রশ্নযোগ্য হওয়া, সময় ও বাস্তবতার সাথে সংশোধিত হওয়া এবং মানবাধিকারের আলোকে বিকশিত হওয়া। গনতন্ত্রে আইন হলো প্রশ্ন করা, সন্দেহ করা, যুক্তি দিয়ে যাচাই করার পদ্ধতি। কিন্তু ধর্মীয় ডগমার স্বভাব ভিন্ন। ধর্ম প্রশ্নাতীত, অপরিবর্তনীয় এবং ‘চূড়ান্ত সত্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। যখন আইন ধর্মীয় ডগমার ওপর দাঁড়ায়, তখন আইন আর সংশোধনযোগ্য থাকে না; মানবিক কষ্ট দেখেও পরিবর্তনের পথ বন্ধ হয়ে যায়, আর ভিন্নমত অপরাধে পরিণত হয়। এর ফলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী, ভিন্ন ব্যাখ্যাকারী কিংবা সংশয়বাদীরা বিবেকের তাড়নায় এর প্রতিবাদ করলেও স্বাভাবিকভাবেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হয়। ডগমা-নির্ভর রাষ্ট্রে ভুল আইন সংশোধনের সুযোগ থাকে না, কারণ আইনের সমালোচনা তখন ধর্ম অবমাননা হিসেবে চিহ্নিত হয়, ফলে অন্যায় টিকে যায় এবং ক্ষমতা পবিত্রতার আবরণ পায়। এই প্রক্রিয়ায় ধর্ম নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়; তা নৈতিক অনুপ্রেরণার উৎস না থেকে শাস্তি, ভয় ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার হাতিয়ারে পরিণত হয়। তাই ন্যায়সঙ্গত রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য ভূমিকার স্পষ্ট পৃথকীকরণ অপরিহার্য। ধর্ম থাকবে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও নৈতিক অনুপ্রেরণার জায়গায়, আইন দাঁড়াবে মানবাধিকার, ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে, আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে সেই আইন প্রয়োগ, নাগরিকের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করা। এই পৃথকীকরণেই ধর্ম স্বাধীন থাকে, আইন মানবিক থাকে এবং রাষ্ট্র সংশোধনযোগ্য থাকে।
আমরা একটি মর্যাদাবান, আধুনিক, প্রগতিশীল, ধার্মিক কিন্তু ধর্মান্ধ নয় এমন আলোকিত বাঙ্গালী মুসলমান জনগোষ্ঠী তৈরি করতে চাই যারা বিশ্বব্যাপী সম্মানিত হবেন এবং বিজ্ঞান, অর্থনীতি, শিল্প, সাহিত্য, ক্রীড়া, সংস্কৃতিসহ সকল ক্ষেত্রে সারা পৃথিবীতে নেতৃত্ব দিবেন। সিএমপি সরকার গঠন করলে কেমলমাত্র জনগণের ক্ষমতায়ন এবং আইনের শাসনই প্রতিষ্ঠা করবে না। কেমলমাত্র রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উন্নতির মধ্যেই দেশকে সীমাবদ্ধ রাখবে না। ক্রীড়া, শিল্প, সাহিত্য, সিনেমা, গান, চলচিত্র সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশকে উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যাবে। এটি আমাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা।
বাঙ্গালি মুসলমানদের নেতৃত্ব দেশ এগিয়ে যাক সেটি আমরাও চাই। কিন্তু আমরা এটিও চাই যে মুসলমানরা ধর্মীয় গোড়ামি বাদ দিয়ে প্রগতিশীল হোক। মুসলমানরা জ্ঞান, বিজ্ঞান, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, শিল্প-সাহিত্য, চলচিত্র, সঙ্গীতসহ সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে যাক। আমরা চাই বাঙ্গালি মুসলমানরা সেই যোগ্যতা অর্জন করুক। আমরা সরকার গঠন করলে যে মহান উদ্দেশ্যে ইউরোপে “Age of Enlightenment” এর সুচনা হয়েছিল কিংবা বায়তুল হিকমা’ (House of Wisdom)-জ্ঞানগৃহের প্রতিষ্ঠাতা আব্বাসীয় খলিফা আল মামুনের আমলে ইসলামের যে বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের সুচনা হয়েছিল সেই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি মুসলমান এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, সমাজ ও মানুষের জন্য উপযোগী একটি “আলোকিত যুগ” সৃষ্টির প্রকল্প গ্রহন করা হবে। এনলাইটমেন্ট প্রজেক্টের মাধ্যমে বিশ্বমানের বিজ্ঞানী, গবেষক, দার্শনিক, উদ্যোক্তা (Entrepreneur), রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক, অধিকার কর্মী, চিন্তক, তাত্বিক, লেখক, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব তৈরিতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা।
সিএমপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয় সিএমপি একটি নেশন বিল্ডার, একটি ভিসনারি দল।
যেহেতু আমরা বাংলাদেশপন্থী, যেহেতু পাকিস্তান অর্থনৈতিকভাবে আমাদের শোষণ করেছিল, যেহেতু বাঙালির ভাষিক, সাংস্কৃতিক অধিকারকে পাকিস্তান দমনের চেষ্টা করেছে, যেহেতু ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিরা লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশিদের হত্যা করেছে তাই পাকিস্তান সৃষ্টির আন্দোলন বা পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের ইতিহাস (যেটিকে আমরা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন বলে জানি) আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। যেহেতু আমরা বাংলাদেশপন্থী আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ সৃষ্টির আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ। যে ভাষায় আমরা কথা বলি সেই ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতি, সাতচল্লিশ থেকে একাত্তর- ২৪ বছরের বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের লড়াই, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের সকল বীরদের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা। একাত্তর থেকে চব্বিশসহ এদেশের সকল মানুষ যারা স্বাধীনতার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য জীবন দান করেছেন তাদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল আমরা। আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি যে, জাতীয়তাবাদ আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু নয়। কিন্তু ১৯৪৭–১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা–সংস্কৃতির অধিকারের প্রেক্ষিতে-
বাঙালি জাতীয়তাবাদ ন্যায়বাংলা পার্টির কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমধর্মী নীতিগত ভিত্তি।
** নীতিগত বিবৃতি – বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও আদিবাসী অধিকার
আমরা বাঙালি জাতীয়তাবাদকে সমর্থন করি:
কিন্তু এই সমর্থনটি স্পষ্টভাবে মানবিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অধিকারের ভিত্তিতে দাঁড়ানো।
আমাদের কাছে বাঙালি জাতীয়তাবাদ মানে:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার স্বাধীনতা ও প্রসার
- সাংস্কৃতিক পরিচয়, লোকঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক চেতনাকে রক্ষা
- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট সৃষ্টিতে ২৪ বছরের বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
আমরা পরিষ্কারভাবে বিশ্বাস করি:
বাঙালি জাতীয়তাবাদ কোনো জাতিগত বা ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্ববাদ নয়।
আমরা জাতি-ধর্ম-বর্ণের নামে কোনো ধরনের শ্রেষ্ঠত্ববাদ বা আধিপত্যবাদী রাজনীতির সমর্থক নই।
বাংলাদেশে বসবাসকারী বাঙালি নয় এমন জাতিগোষ্ঠী যেমন মারমা, চাকমা, সাঁওতালসহ অন্য যারা জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃত- আমরা তাদের সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বীকৃতিকে পূর্ণ সমর্থন করি।
আমাদের অবস্থান স্পষ্ট:
বাংলাদেশ একটি বহু-গোষ্ঠী, বহু-সংস্কৃতির মানবিক রাষ্ট্র।
এ রাষ্ট্রে কারো পরিচয় রাষ্ট্রীয়ভাবে খর্ব হবে না, আবার রাষ্ট্রীয় সুবিধা বা ক্ষমতার দোহাই দিয়ে কেউ কারো ওপর আধিপত্যও বিস্তার করতে পারবে না।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ ন্যায়বাংলা পার্টির কাছেঃ
১. ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতিগত অবস্থান
২. বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত একটি ভিত্তি
৩. উগ্রতা, শ্রেষ্ঠত্ববাদ ও আধিপত্যবাদমুক্ত একটি সীমাবদ্ধ নীতি
বাঙালি জাতীয়তাবাদ আমাদের কাছে ভাষা, সংস্কৃতি ও ন্যায়সঙ্গত রাষ্ট্রচিন্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
ন্যায়বাংলা পার্টির রাজনীতি মানুষের অধিকারের রাজনীতি,
জাতীয়তাবাদ নয়, মানবাধিকারই আমাদের প্রথম পরিচয়।
আমরা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে একটি সুনির্দিষ্ট অবস্থান থেকে সমর্থন করি- এই অর্থে যে, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বলতে আমরা বুঝি দেশপ্রেম, বাংলাদেশি নাগরিকদের উন্নতি, প্রগতি এবং মানবসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা। এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান সুনির্দিষ্ট, কারন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ মানে আমরা বুঝি দুর্নীতি না করা। আমরা মনে করি একজন প্রকৃত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী কখনো দুর্নীতি করতে পারেনা। আমরা প্রকৃত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে সমর্থন করি। আমরা প্রকৃত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী ভুমিকাকে সমর্থন করি কারন আমরা বিশ্বাস করি একজন প্রকৃত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী জনগণের ট্যাক্সের টাকা চুরি করেনা।
“বাঙ্গালী মুসলিম জাতীয়তাবাদ”-কে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য আমরা ধারণ করি কারন আমরা চাই বাংলাদেশের মুসলমানদের নেতৃত্বে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও গবেষনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উন্নত, প্রগ্রেসিভ, মর্যাদাবান জাতি হিসেবে এগিয়ে যাক। বাংলাদেশী মুসলমানদের নেতৃত্বে বাংলাদেশীদের একটি সাংস্কৃতিক জাগরণ আমরা দেখতে চাই যেটি সারা বিশ্বে বাঙ্গালী মুসলমানের/সকল বাংলাদেশীদের এম্বাসেডর হবে, আমাদের গর্বের কারন হবে, আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হবে।
ন্যায় বাংলা পার্টি একটি দুর্নীতিবিরোধী ও মানবাধিকার–ভিত্তিক রাজনৈতিক দল।
আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে মানুষের মর্যাদা, নাগরিক স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহি।
কেন আমরা বাঙালি জাতীয়তাবাদকে সমর্থন করি?
কারণ একটি রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য জাতীয় ঐক্যের এমন একটি ভিত্তি প্রয়োজন, যা দেশের প্রায় সকল মানুষকে ধারণ করতে সক্ষম। বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের ক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ধারাবাহিক সংগ্রামই শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ তৈরি করেছে। এই ইতিহাস যুক্তিসঙ্গত, বাস্তব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক—কারণ বাঙালি জাতীয়তাবাদ বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে ধারণ করে।
তবে আমরা স্পষ্টভাবে বলি,
স্বাধীন বাংলাদেশে বাঙালি জাতীয়তাবাদ কোনোভাবেই উগ্র শ্রেষ্ঠত্ববাদী জাতীয়তাবাদে রূপ নিতে পারে না।
আমরা যেমন উগ্র বাঙালি শ্রেষ্ঠত্ববাদ প্রত্যাখ্যান করি, তেমনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নামে গড়ে ওঠা উগ্র বাংলাদেশি মুসলিম জাতীয়বাদ বা আল্ট্রা-ন্যাশনালিস্ট প্রবণতারও সমর্থক নই।
আমাদের কাছে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সীমা নির্ধারিত:
এটি থাকবে ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক চর্চার অধিকার এবং তার ন্যায়সঙ্গত প্রসারের মধ্যে।
এর বাইরে গিয়ে জাতি, ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে আধিপত্য, বর্জন বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার যে কোনো প্রচেষ্টা আমরা প্রত্যাখ্যান করি।
ন্যায়বাংলা পার্টি বিশ্বাস করে বাংলাদেশ একটি বহুসাংস্কৃতিক, বহুগোষ্ঠীর রাষ্ট্র।
জাতীয় ঐক্য মানে একরূপতা নয়, বরং ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে একসাথে এগিয়ে যাওয়া।
মুসলিম জাতীয়তাবাদ/ হিন্দুত্ববাদ বা যে কোন ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ আমাদের দলীয় নীতির বাইরে। আমরা এটি সমর্থন করিনা কারন এটি মানুষে মানুষে বিভেদ, ঘৃণা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়ায়।
ন্যায়বাংলা পার্টির সদস্য হতে হলে কোন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সমর্থক হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। জাতীয়তাবাদ আমাদের রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট নয়।
বাঙালি জাতীয়তাবাদী পরিচয় গ্রহণ করাও কোনো শর্ত নয়।
আমাদের দলে স্থান পেতে মানুষের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানই একমাত্র বিবেচ্য।
কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের অবস্থান এখানে একেবারে স্পষ্ট ও অটলঃ
কোনো অবস্থাতেই মুসলিম লীগের পাকিস্তানপন্থী মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সমর্থক হওয়া যাবে না।
পাকিস্তান রাষ্ট্রসৃষ্টির আন্দোলন, তার রাজনৈতিক নেতৃত্ব, কিংবা সেই আদর্শকে গৌরবান্বিত করা আমাদের দলে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কারণ এই পাকিস্তানপন্থী মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ফলেই-
এদেশে লক্ষ মানুষের উপরে হত্যা, ধর্ষণ, বাস্তুচ্যুতি, অগ্নিসংযোগ এবং গণনিপীড়ন সংঘটিত হয়েছে।
মুসলিম লীগ, জামাত, ছাত্রসংঘ (বর্তমানে শিবির), আলবদর ও আলশামস বাহিনী, রাজাকারসহ পাকিস্তানপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলো মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগী ছিল।
এই ধরনের রাজনীতি, আদর্শ বা ইতিহাস বিকৃতির প্রতি সহানুভূতি ন্যায়বাংলা পার্টির নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
সেই কারণে পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি ও তার যে কোনো রূপ আমাদের দলে গ্রহণযোগ্য নয়।
ন্যায় বাংলা পার্টির অবস্থান স্পষ্টঃ
মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী কোনো আদর্শের সঙ্গে আমাদের কোনো আপস নেই।
ন্যায়বাংলা পার্টির সদস্য হতে হলে কোনো জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সমর্থক হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
জাতীয়তাবাদ ন্যায়বাংলা পার্টির রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট নয়।
আমাদের রাজনীতির মূল ভিত্তি হলোঃ
মানবাধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান।
রাষ্ট্র, পরিচয় বা মানবাধিকারের প্রশ্নে আমরা মানুষের অধিকারকে জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে রাখি।
আমাদের কাছে আপনি আগে মানুষ- এই পরিচয়ই সব বিবেচনার ঊর্ধ্বে।
আমরা বিশ্বাস করিঃ ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র টিকে থাকে।
ন্যায়বাংলা পার্টি এমন একটি রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করতে চায়,
যেখানে কেউ বাঙালি জাতীয়তাবাদী হতে পারেন, কেউ নাও হতে পারেন,
কিন্তু ধর্ম, চেতনা, জাতীয়তা বা আদর্শের নামে মানবাধিকারবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক রাজনীতি, সহিংসতার বৈধতা, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিবিদ্বেষ এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থানের কোনো জায়গা আমাদের রাজনীতিতে নেই।
এই সীমারেখাই আমাদের রাজনীতির পরিচয়।
৬ নং দফাঃ আমাদের দলের ভিসন /উদ্দেশ্য কি?
আমাদের দল সকল মতের স্বপ্নবাজ মানুষদের মিলনমেলা হবে যাদের একটাই মিশন একটাই ভিসন সেটি হলো দেশকে বদলাতে মানবসেবাকে বেছে নেওয়া- সহিংসতা, দুর্বৃত্তায়নমুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা, জনগনের ক্ষমতায়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, সকল নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পুরনে মাঠে নেমে পড়া, দেশপ্রেমিক উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষে প্রয়োজনীয় অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করতে নির্বাচনে দাড়ানো, মেহনতি জনগণ ও লক্ষ বেকারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য একজন রাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিজেকে উৎসর্গ করা, এবং নির্বাচনে জয়লাভ করে জনগণকে দেয়া ওয়াদা পূরণে মরিয়া হয়ে কাজ করা। আমরা মনে করি এই দেশকে বদলাতে কাউকে না কাউকে নিজেকে উৎসর্গ করতেই হবে, কাউকে না কাউকে এই মহান দায়িত্বটি নিতেই হবে।
গণতন্ত্রের জন্য আবেগপ্রবণ মানুষ তৈরি করতে হবে। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠায় আমাদের চাই গণতন্ত্রের জন্য আবেগ। সেই আবেগ যখন ধর্মের প্রতি আবেগের থেকে শক্তিশালী হবে, সেই আবেগ যখন মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আবেগের থেকে শক্তিশালী হবে কেবল তখনই গনতন্ত্র নামের মা রক্ষা পাবে। গণতন্ত্র মানেই স্বাধীনতা। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম মানেই মুক্তিযুদ্ধ। ভোটের অধিকার কে হারানো মানে মাকে হারানো, স্বাধীনতাকে হারানো। ভোট বিক্রি করা মানে মাকে বিক্রি করা।
চেঞ্জ মেকার পার্টি গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী আবেগ সৃষ্টিতে, জনগণের মাঝে গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করাতে ব্যাপকভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
৭ নং দফাঃ আমাদের দলের মূলনীতি কি? রাজনৈতিক আদর্শ কি?
আমাদের মূলনীতি হচ্ছে জনগনের ক্ষমতায়ন ও আইনের শাসন। আমরা জনগণের ক্ষমতায়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এবং সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করার গ্যারান্টি দিচ্ছি। আমরা ভালো মানুষদের ক্ষমতায়ন চাই।
দুর্বৃত্তায়নমুক্ত এবং সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করার পাশাপাশি আমাদের প্রথম অর্থনৈতিক এজেন্ডা হচ্ছে দেশপ্রেমিক, শ্রমিকবান্ধব উদ্যোক্তা তৈরি করা। লক্ষ বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উদ্যোগ গ্রহন করা।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সকল নাগরিকদের প্রধান প্রধান মৌলিক চাহিদা পূরন করাই হবে আমাদের সর্বপ্রথম কাজ। শহরে কিংবা গ্রামে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ডিজিটাল ব্যবস্থায় সকল শিশুর জন্য দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত একই মানের শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে, সকল নাগরিকদের তিন বেলা পুষ্টিকর খাবার, উন্নত পাকা বাড়ি, প্রতিটি গ্রাম এবং মহল্লায় পাকা রাস্তায় চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে। অর্থের অভাবে কাউকে যেন চিকিৎসাহীন অবস্থায় থাকতে না হয়, কেউ যেন ভুল চিকিৎসার স্বীকার না হয় সেটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করা হবে এবং একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে এগুলো বাস্তবায়নের গ্যারান্টি দেয়া হবে। প্রকৃত গরীব, অভাবী, সামর্থ্যহীন মানুষদের ডিজিটাল ব্যবস্থায় একটি সঠিক ডাটাবেইজ গঠন করে তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে স্বল্প খরচে গরমকাল এবং শীতকালে উপযোগী কয়েক সেট পোশাক প্রতি বছর সরবরাহ করা হবে।
ন্যায়বাংলা পার্টি (চেঞ্জ মেকার পার্টি – সিএমপি) একটি দুর্নীতিবিরোধী, উদারপন্থী, প্রগতিশীল, মধ্য-বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন যারা পূর্ণ গণতন্ত্রের (Full Democracy) বাংলাদেশ প্রত্যাশী।
প্রগতিশীল কারা? আভিধানিকভাবে প্রগতি শব্দের অর্থ হচ্ছে উন্নতি বা পরিবর্তন। আর এই প্রগতি বা পরিবর্তনের কাজ যারা করে তাদেরকে আমরা প্রগতিশীল বলি। চেঞ্জ মেকার পার্টি (সিএমপি) যেহেতু জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে এবং দুর্নীতিগ্রস্থ মাফিয়া শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনে কাজ করার জন্য গঠন করা হয়েছে সেই বিবেচনায় সিএমপি একটি প্রগতিশীল দল।
আমরা ন্যায়বাংলা পার্টি (চেঞ্জ মেকার পার্টি- সিএমপি)- আমরা কোন অর্থে বামপন্থী?
বামপন্থী ধারনাটির প্রবর্তন হয় তখন যখন ফ্রান্সের আইন সভায় স্পিকারের বাম দিকে বসতো বামপন্থীরা যারা ছিলেন রাজতন্ত্র, স্বৈরশাসনের পুরনো সিস্টেমকে পরিবর্তন করে জনগণের ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠার পক্ষে এবং স্পিকারের ডান দিকে বসতো ডানপন্থীরা যারা ছিলেন রাজতন্ত্র, স্বৈরশাসনের পুরনো সিস্টেমকে টিকিয়ে রাখার পক্ষে।
বামপন্থী আর ডানপন্থী বলতে আমরা কি বুঝি?
আমরা বামপন্থী এই অর্থে যে আমরা ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারি, টেন্ডারবাজির মাফিয়া সিস্টেমকে পরিবর্তনের পক্ষে, এবং আমরা আইনের শাসন ও জনগণের ক্ষমতায়নের পক্ষে, আমরা পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি বাতিলের পক্ষে, আমরা রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত – আমলা- মিলিটারি এই ত্রয়ী মাফিয়াশক্তির ঘুষ, দুর্নীতির বিপরীতে জনগণের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন সিস্টেমের পক্ষে। আমরা একটি স্বচ্ছ, উন্মুক্ত, গনতান্ত্রিক সিস্টেমের পক্ষে যেখানে রাজনীতিবিদ, সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্রকে একটি জবাবদিহিতার মধ্যে আনা যাবে, যেখানে দুর্নীতি করা অসম্ভব হয়ে উঠবে।
আমাদের চোখে ডানপন্থী হচ্ছে তারা যারা পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি, রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত – আমলা- মিলিটারি এই ত্রয়ী মাফিয়াশক্তির পুরনো সিস্টেমকে টিকিয়ে রাখার পক্ষে, যারা ধর্ম এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে মেরুকরণের অপরাজনীতির পুরনো সিস্টেমকে টিকিয়ে রাখার পক্ষে।
সে হিসেবে শুধু জামাত বা বিএনপিই ডানপন্থী দল নয়, আওয়ামীলীগও একটি ডানপন্থী দল।
বামপন্থীরা পুরনো রাজনৈতিক সিস্টেমকে পরিবর্তনের পক্ষে আর ডানপন্থীরা পুরনো রাজনৈতিক সিস্টেমকে টিকিয়ে রাখার পক্ষে- সেই যুক্তিতে আমরা বামপন্থী।
সে বিবেচনায় একজন নামাজি, ধর্মভীরু ব্যাক্তিও বামপন্থী হতে পারেন।
আমাদের ভাবধারা বামপন্থী—তবে সেই বামপন্থা কোনো একদলীয় শাসনের ছাঁচে ঢালা মতবাদ নয়। আমরা সমতা ও মানবমর্যাদার রাজনীতি করি, একনায়কতন্ত্রের নয়। যেমনভাবে প্রতিটি মানুষ স্বতন্ত্র সত্তা—এই উপলব্ধি থেকেই আমরা বলি,
মানুষের মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে থাকা মানেই কারও ব্যক্তিগত জীবনধারা অনুকরণ করা নয়- তা সে এলজিবিটি হোক কিংবা হিজাবী,
তেমনি বামপন্থী হওয়া মানে কোনো একদলীয় মতবাদে বন্দি থাকা নয়, রাষ্ট্রে কমিউনিস্ট একচেটিয়া ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা নয়।
আমাদের লক্ষ্য স্বাধীন চিন্তা, ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি ও নাগরিক স্বাধীনতার সমন্বয়ে মানবিক রাষ্ট্র গঠন—যেখানে আদর্শ থাকবে, কিন্তু মতের দাসত্ব থাকবে না। একজন বামপন্থী অবশ্যই ভিন্নমতে দমনের বিপক্ষে, ভিন্নমতে সহনশীলতা এবং পরমতসহিষ্ণুতার (Toleration) পক্ষে। আমরা দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের জীবন, নিরাপত্তা, ব্যাক্তি স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকারের পক্ষে– তা তারা সরকারের পক্ষে হোক বা সরকার বিরোধী হোক, বা ভিন্নমতাবলম্বী হোক আমরা সেটি বিবেচনায় রাখব না।
ন্যায়বোধের পক্ষে অবস্থান মানে কোনো গোষ্ঠীর অনুকরণ নয়, বরং প্রতিটি মানুষের স্বাধীন অস্তিত্ব ও মর্যাদার স্বীকৃতি। বাংলাদেশ আজ দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত—উপরের রাষ্ট্রে আছে অল্পসংখ্যক এলিটের বিলাসী উন্নয়ন, নিচের রাষ্ট্রটি কোটি মানুষের অদৃশ্য শ্রমিক রাষ্ট্র। এই দুই স্তরের ব্যবধানই হলো বাংলাদেশের প্রকৃত শ্রেণিসংগ্রাম। আমাদের রাজনীতি এই কোটি মানুষের শ্রেণির পক্ষে সংগ্রামের রাজনীতি—যেখানে শ্রেণিসংগ্রাম মানে অস্ত্র নয়, যাদের ঘামে এই রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে আছে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার গণতান্ত্রিক সংগ্রাম।
শোষণমুক্ত, অর্থনৈতিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক নীতির প্রয়োজন আছে।
কিন্তু আমরা লেলিনবাদী অর্থে সর্বহারা শ্রেণির শাসন “Dictatorship of the Proletariat”কে (রাষ্ট্রক্ষমতার মাধ্যমে এক শোষক শ্রেণির ওপর আরেক শোষিত শ্রেণির রাজনৈতিক আধিপত্য) অর্থাৎ একটি শ্রেণির রাজনৈতিক আধিপত্যকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার নীতি হিসেবে সমর্থন করি না।
লেলিন তাত্ত্বিকভাবে বলেছিলেন: শোষিত শ্রেণির (কৃষক-শ্রমিক) জন্য সর্বোচ্চ গণতন্ত্র, শোষকদের (জমিদার/পুঁজিপতি) জন্য কোনো স্বাধীনতা নেই।
কিন্তু বাস্তবে সোভিয়েত অভিজ্ঞতায় দেখা গেল:
শ্রেণির dictatorship” ধীরে ধীরে পার্টির dictatorship হয়ে গেল
তারপর হয়ে গেল ব্যক্তি লেলিনের dictatorship!
সর্বহারা শ্রেণির শাসন-এটি আমাদের রাষ্ট্রের মূলনীতি হতে পারে না।
আমরা ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য কমাতে চাই।
কিন্তু নাগরিক হিসেবে, মানুষ হিসেবে, কারও মানবাধিকার কেড়ে নেওয়ার পক্ষে আমরা নই।
মানুষ হিসেবে সবাই সমান।
ধনী–গরিব নির্বিশেষে মানবাধিকার সর্বজনীন, অবিচ্ছেদ্য ও সমানভাবে প্রযোজ্য।
অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে বৈষম্য কমিয়ে,
অধিকার কেড়ে নিয়ে নয়।
আমরা মানুষে মানুষে সকল ধরনের বৈষম্য কমাতে চাই।
আমরা বিশ্বাস করি,
গণতন্ত্রে কোনো শ্রেণির রাজনৈতিক একনায়কত্ব নয়, বরং সমান অধিকার, আইনের শাসন ও জনগণের সার্বভৌমত্বই চূড়ান্ত।
তবে সোশ্যাল ডেমোক্রেসির অর্থে সমাজতন্ত্র বাংলাদেশের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।
কারণ সমাজতন্ত্র এখানে
ধনী–গরিবের অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর উপায়
শিক্ষা ও চিকিৎসাকে ফ্রি ও সার্বজনীন করার রাষ্ট্রীয় দায়
মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করার কাঠামো
এবং সর্বোপরি একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি।
এই অর্থে সমাজতন্ত্র কোনো রাজনৈতিক স্বৈরতন্ত্র নয়,
বরং মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক অর্থনৈতিক দর্শন।
এই কারণেই সমাজতন্ত্রকে সংবিধানের মূলনীতি থেকে বাতিল করা যাবে না।
বৈষম্য শুধু ধনী ও গরিবের মধ্যে নয়—
আমরা মানুষে মানুষে সকল ধরনের বৈষম্য কমাতে চাই।
এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘুর মধ্যে,
শক্তিশালী ও দুর্বলের মধ্যে,
রাষ্ট্রক্ষমতাসম্পন্ন ও সাধারণ নাগরিকের মধ্যে।
আমরা বিরোধিতা করি—
ধনী–গরিবের অর্থনৈতিক বৈষম্য
সংখ্যালঘু বনাম সংখ্যাগরিষ্ঠ বৈষম্য
সকল ধরনের শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য
পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের হাতে সাধারণ নাগরিকের প্রতি আচরণ ও জবাবদিহিতার বৈষম্য
ন্যায়বিচারে দুর্বল ও ক্ষমতাহীন মানুষের সঙ্গে প্রভাবশালীদের বৈষম্য
নারী ও পুরুষের ক্ষমতায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৈষম্য
শিশুর প্রতি বৈষম্য ও অবহেলা
ধর্মের ভিত্তিতে বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীর মধ্যে বৈষম্য
নাগরিক হয়েও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত একা দুর্বল মানুষের সঙ্গে পেশিশক্তিনির্ভর গোষ্ঠীর বৈষম্য
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ওপর বাঙালি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের বৈষম্য
আরও যেসব বৈষম্য আমরা অগ্রহণযোগ্য মনে করি
গ্রাম ও শহরের মধ্যে উন্নয়ন ও সুযোগের বৈষম্য
প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি কাঠামোগত ও সামাজিক বৈষম্য
শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে আইন প্রয়োগের বৈষম্য
শিক্ষায় সরকারি–বেসরকারি ও ইংরেজি–বাংলা মাধ্যমে বৈষম্য
ডিজিটাল সুবিধা পাওয়া ও না পাওয়া মানুষের বৈষম্য
মতপ্রকাশে ক্ষমতাবান ও সাধারণ নাগরিকের বৈষম্য
ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নাগরিক অধিকার প্রয়োগে বৈষম্য
ইত্যাদি সকল প্রকার মানবিক, সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধেই ন্যায়বাংলার অবস্থান স্পষ্ট ও আপসহীন।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্যই ছিল শোষণমুক্ত সমাজ গড়া।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারিত হবে
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে,
- জনগণের রক্ত ও আত্মত্যাগ থেকে,
- এবং শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার ঐতিহাসিক অঙ্গীকার থেকে।
এই উদ্দেশ্য থেকে সরে আসা মানে রাষ্ট্রের জন্মদর্শনকেই অস্বীকার করা।
সংবিধান থেকে সমাজতন্ত্র সরানোর অর্থ হচ্ছে কর্পোরেট-নিয়ন্ত্রিত ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা, বুর্জোয়া দালাল শ্রেণির আধিপত্য
এবং গণতন্ত্রকে পুঁজি ও ক্ষমতার কাছে বন্দী করে দেওয়া।
বৈষম্যমুক্ত, শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য যে সমাজতান্ত্রিক ধারণা সংবিধানে যুক্ত করা হয়েছিল, সেটা ছিল রাষ্ট্রের জন্মলগ্নের অর্থনৈতিক অঙ্গীকার।
এই সমাজতন্ত্রের অর্থ ছিল না
- একদলীয় শাসন
- বা লেলিনবাদী শ্রেণি-ডিক্টেটরশিপ
এর অর্থ ছিল
- সম্পদের চরম বৈষম্য ভাঙা
- রাষ্ট্রকে শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য, বাসস্থানের দায় নিতে বাধ্য করা
- পুঁজি নয়, মানুষকে রাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে রাখা
সংবিধান থেকে সমাজতন্ত্র সরানোর অর্থ হচ্ছেঃ
-কর্পোরেট-নিয়ন্ত্রিত ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা
-বুর্জোয়া দালাল শ্রেণির আধিপত্য
– এবং গণতন্ত্রকে পুঁজি ও ক্ষমতার কাছে বন্দী করে দেওয়া।
সমাজতন্ত্রকে সরানো মানে হলো রাষ্ট্রকে ধীরে ধীরে কর্পোরেট-নিয়ন্ত্রিত ধনতন্ত্রের হাতে ছেড়ে দেওয়া। কর্পোরেট লুটপাটকে নৈতিকতা দেওয়া, বিদেশি ও দেশীয় পুঁজির একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম করা। সমাজতন্ত্র মুছে ফেলা মানে শোষণমুক্ত বাংলাদেশের সাংবিধানিক দরজাটা বন্ধ করে কর্পোরেট ধনতন্ত্র আর তার ধর্মীয় দালালদের জন্য রাষ্ট্রের দরজা খুলে দেওয়া।
এই নীতি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নয়, এটি কর্পোরেট ধনতন্ত্রের, এটি স্বাধীনতাবিরোধী মুসলীম লীগ-জামাত ধাঁচের বুর্জোয়াদের দালাল রাজনীতির।
হ্যাঁ, বাংলাদেশ সংবিধানের মূলনীতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছি। কারণ এই নীতিগুলো আদালতের মাধ্যমে সরাসরি বলবৎযোগ্য ছিল না এবং মূলনীতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি ছিল। এই ব্যর্থতা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য শঠতাপূর্ণ ও অত্যন্ত লজ্জাজনক, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে চরম প্রতারণার শামিল।
কিন্তু এই ব্যর্থতা কোনোভাবেই প্রমাণ করে না যে ধর্মনিরপেক্ষতা বা বাঙালি জাতীয়তাবাদ বা সমাজতন্ত্র ভুল নীতি ছিল, বা এগুলো কোনো একক রাজনৈতিক দলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এজেন্ডা ছিল। বা এগুলো কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র। এই ধরনের কথা সম্পূর্ণ ভুল, বিভ্রান্তিকর এবং ষড়যন্ত্রমূলক প্রোপাগান্ডা।
সংবিধানের মূলনীতিগুলো কোনো দলের নয়,
এগুলো কোনো বিদেশি শক্তির তৈরি নয়।
এগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা।
শোষণমুক্ত সমাজ, বৈষম্যহীন অর্থনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার
এসবই ছিল মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক অঙ্গীকার।
সেই ঐতিহাসিক অঙ্গীকারকে অস্বীকার করা মানে
স্বাধীনতা যুদ্ধের রাজনৈতিক ও নৈতিক ভিত্তিকেই অস্বীকার করা।
আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্দেশ্য থেকে সরে আসতে পারি না।
সমাজতন্ত্র রাষ্ট্রনীতিতে থাকলে ধর্মকে অজুহাত বানিয়ে অর্থনৈতিক শোষণকে নীতি হিসেবে দাঁড় করানো যায় না।
যদি সংবিধানের মূলনীতি কোনো একটি বিশেষ দলের নীতি বলে দাবি করা হয়,
তাহলে সেই অজুহাতে সংবিধান থেকে উক্ত মূলনীতি সরিয়ে দেওয়াও
বাংলাদেশবিরোধী একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রমূলক নীতি—
যার পেছনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ
কিছু বুর্জোয়া স্বার্থান্বেষী দলের আদর্শিক ভূমিকা স্পষ্ট।
এই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য ছিল
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রদর্শনকে দুর্বল করা
এবং শোষণমুক্ত বাংলাদেশের সাংবিধানিক ভিত্তি ভেঙে দেওয়া।
গণতন্ত্র-মানবাধিকার থাকবে রাজনৈতিক শাসনে,
আর সমাজতন্ত্র থাকবে অর্থনৈতিক নীতিতে
এই সমন্বয়ই শোষণমুক্ত বাংলাদেশের একমাত্র বাস্তব পথ।
আমরা একটি কল্যাণ রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখি তাই আমাদের অর্থনৈতিক নীতি সোশ্যাল ডেমোক্রেসি (সামাজিক গণতন্ত্র) দ্বারা প্রভাবিত হবে। আমাদের সামাজিক গণতন্ত্র বলে:
- রাষ্ট্রকে পুরো বাতিল নয়, রূপান্তর করা যায়
- গণতন্ত্র শুধু মাধ্যম না, নিজেই লক্ষ্য
- অধিকার, কল্যাণ, শ্রমিক সুরক্ষা এখনই দরকার
রাষ্ট্র শত্রু নয়; ভুল রাষ্ট্রব্যবস্থাই সমস্যা।
রাষ্ট্রকে বাতিল নয়, গণতান্ত্রিকভাবে রূপান্তর করতে হবে
রাষ্ট্রকে এমনভাবে বদলাতে হবে যেন তাঃ
-মানুষের অধিকার রক্ষা করে
-সামাজিক নিরাপত্তা দেয়
-শ্রমিক, দরিদ্র ও দুর্বলদের পাশে দাঁড়ায়
-বাজার ও ক্ষমতার লাগাম টানে
গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক, কল্যাণকেন্দ্রিক রাষ্ট্র গড়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে মানুষের অধিকার ও কল্যাণের বাহনে রূপান্তর করাই সোশ্যাল ডেমোক্রেসির লক্ষ্য।
উদাহরণ:
করের মাধ্যমে বৈষম্য কমানো
শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি
সর্বজনীন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা
নারী, সংখ্যালঘু, ভিন্নমতের আইনি সুরক্ষা ইত্যাদি।
কেন সামাজিক গণতন্ত্র আজকের বাংলাদেশের রাজনীতির বাস্তবতা?
কারণ এটা বোঝে:
মানুষ পুরোপুরি বিপ্লবী হয়ে জন্মায় না
মানুষ আগে নিরাপত্তা চায়, মর্যাদা চায়
অধিকার পেলে মানুষ রাজনীতিতে আগ্রহী হয়
আমাদের দলের একটি প্রধান নীতি হবে মানবাধিকার–কেন্দ্রিক গণতন্ত্র তথা মানবতাবাদ।
বাংলাদেশের বাস্তবতা কী?
বাংলাদেশে:
শ্রমিক শ্রেণি ছিন্নভিন্ন, ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি, ধর্ম, পরিবার, নিরাপত্তা বড় ফ্যাক্টর, মানুষ রাষ্ট্রকে ভয় পায়, বিশ্বাস করে না। এই সমাজে বিপ্লবী চেতনার থেকে বেশি জরুরী মানুষের বেচে থাকা। এর জন্যই চাই মানবাধিকার–কেন্দ্রিক গণতন্ত্র।
আমাদের মানবাধিকার–কেন্দ্রিক গণতন্ত্র কী করে?
এটা শুরু করে নিম্নতম জায়গা থেকে।
১. মানুষকে আগে নাগরিক বানায়
- মত প্রকাশের নিরাপত্তা
- হেট স্পিচ ও সহিংসতা থেকে সুরক্ষা
- আইনের সমতা
এগুলো ছাড়া কোনো বাম রাজনীতি টিকে না।
২. রাষ্ট্রের সহিংস ক্ষমতা সীমিত করে
- গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা শূন্য সহনশীলতা
- পুলিশ ও প্রশাসনের জবাবদিহি
- স্বাধীন বিচারব্যবস্থা
এইগুলো না থাকলে সমাজতন্ত্র মানেঃ নতুন নামে পুরোনো দমন।
৩. অধিকার দিয়ে রাজনৈতিক চেতনা তৈরি করে
মানুষ যখন দেখে:
- চিকিৎসা পাচ্ছে
- সন্তান স্কুলে যাচ্ছে
- চাকরিতে সুপারিশ কমছে
তখন সে প্রশ্ন করতে শেখে: “আমি আরও কী চাইতে পারি?” এই প্রশ্নটাই রাজনীতির প্রাণ।
৪. ধর্ম ও সংস্কৃতির সাথে যুদ্ধ করে না
মানবাধিকার–কেন্দ্রিক গণতন্ত্র বলে: বিশ্বাস ব্যক্তিগত, রাষ্ট্র নিরপেক্ষ, কেউ কাউকে ভয় দেখাতে পারবে না।
আমরা বিশ্বাস করি—মানুষই রাষ্ট্র, সমাজ ও ন্যায়ের চূড়ান্ত মাপকাঠি। ধর্ম, দল বা শ্রেণি নয়—মানব মর্যাদা, বিবেক ও সহানুভূতিই হবে সব নীতির ভিত্তি।
আমাদের কাছে নৈতিকতা আসে কেবল ঈশ্বরভীতিতে নয়, আসে মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে।
প্রত্যেক নাগরিক, তার ধর্ম, জাত, লিঙ্গ, ভাষা বা বিশ্বাস নির্বিশেষে, সমান অধিকার ও সম্মানের দাবিদার।
রাষ্ট্র হবে ধর্মনিরপেক্ষ, মানবিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক—যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যুক্তি, তথ্য ও সাধারণ কল্যাণের আলোকে।
আমরা চাই এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে “মানুষ” হবে প্রথম পরিচয়—
আর রাজনীতি মানে হবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, কোনো মতাদর্শ বা গোষ্ঠীর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা নয়।
আমরা যদি আমরা সরকার গঠন করতে পারি সেক্ষেত্রে আমরা ন্যায়বাংলা পার্টি (চেঞ্জ মেকার পার্টি -সিএমপি) বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা এবং পূর্ণ মর্যাদার সাথে জীবন ধারনের গ্যারান্টি দিব, কারন সরকার হিসেবে এটিই আমাদের দায়িত্ব এবং এটি জনগণের ন্যায্য মৌলিক অধিকার।
আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন কি?
আমাদের দল বাংলাদেশকে পরিচালিত করবে মানবিক ন্যায়, স্বাধীন যুক্তি ও বিবেকের নীতিতে—যেখানে নৈতিকতার উৎস হবে মানুষ নিজেই।
আমাদের লক্ষ্য একটি গনতান্ত্রিক ডিজিটাল ওয়েলফেয়ার স্টেট যেটি এই চারটি গনতান্ত্রিক স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়েঃ
১. লিবারেল ডেমোক্রেসি (Liberal Democracy) যেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত। উদাহরণ: বাকস্বাধীনতা, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, বিরোধীদলের অধিকার।
২. সোশ্যাল ডেমোক্রেসি (Social Democracy- Nordic Model) যেখানে রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, ও জীবিকার দায়িত্ব নেয়। উদাহরণ: স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর মতো সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা।
৩. ডিজিটাল ডেমোক্রেসি (Digital Democracy) যেখানে জনগণ অনলাইনে সরাসরি মতামত, ভোট, ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেয়—আইন, বাজেট এমনকি নীতি নির্ধারণেও। উদাহরণ: আইন প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে নাগরিকের মন্তব্য ও ভোটদানের সুযোগ।
৪. ডিরেক্ট ডেমোক্রেসি (Meritocratic Civic Literacy Democracy) যেখানে আইন প্রণয়নে ডিজিটাল ভোট বা নীতিনির্ধারণে অংশ নিতে হলে নাগরিককে নির্দিষ্ট জ্ঞান ও সচেতনতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। উদাহরণ: মানবাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা, গঠনমূলক সমালোচনা ও যুক্তিবোধে পরীক্ষিত ভোটার।
এই চারটি একত্রে মিলে যে ধারণাটি তৈরি হয়, সেটিই আমাদের প্রস্তাবিত “ডিজিটাল ওয়েলফেয়ার স্টেট”–এর গণতান্ত্রিক ভিত্তি।
৮ নং দফাঃ দলের আভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কি?
আমার সংগঠন ছোট। কিন্তু আমরা সবাই ফ্রিম্যান। কারন আমরা একে অপরের গঠনমুলক সমালোচনা করি, ভুল ধরিয়ে দেই নির্ভয়ে যাতে করে আমাদের দল জনগনের মন জয় করে নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারে। এদেশে যাদের সংগঠন বড় তারা দলদাস। তারা ফ্রিম্যান না।
আমাদের দলের প্রতিটি সদস্যদের ডিজিটাল নিবন্ধন থাকবে। প্রতিটি সদস্য নীতিনির্ধারণে ভুমিকা রাখতে পারবে।
আমাদের দলে একক কোন নেতা থাকবে না, কোন সভাপতি বা সেক্রেটারি থাকবেনা।
আমাদের একটি নীতি নির্ধারনী কমিটি থাকবে। কমিটি গঠন হবে সকল সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে।
কমিটি গঠিত হলে দলীয় সকল উদ্যোগ কমিটি প্রথমে প্রস্তাবনা আকারে উপস্থাপন করবে। সিদ্ধান্ত গ্রহন হবে সম্পূর্ণ গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়, কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল সিস্টেমে সকল সদস্যদের অনলাইন ভোটের মাধ্যমে। যদি প্রস্তাবনার পক্ষে “হা” ভোট বেশি পড়ে তাহলে সেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
স্বচ্ছতার স্বার্থে আমাদের সকল প্রস্তাবনা, দলীয় সিদ্ধান্ত জনগণের নিকট অনলাইনে দৃশ্যমান থাকবে।
প্রতিটি জেলা শহরে, উপজেলা সদরে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ওয়ার্কিং কমিটি থাকবে।
৯ নং দফাঃ কাদের নিয়ে আমাদের দল গঠন হবে?
শুরুতেই যেটি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই- আমাদের পার্টিতে সব শ্রেনীর মানুষকে স্বাগত জানাই কিন্তু আমাদের পার্টি হবে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর সুশিক্ষিত, সৎ, দেশপ্রেমিক, সংস্কৃতিমনা, আধুনিকতাবাদী মানুষদের পার্টি যারা মেহনতি মানুষ, প্রান্তিক মানুষদের অধিকারের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকবে। আমাদের দল হবে বাংলাদেশের একমাত্র পার্টি যেটি বাংলাদেশের সভ্য, সহনশীল, মধ্যবিত্ত শ্রেনীর নেতৃত্বে চলবে। মধ্যবিত্তের মধ্যে যারা সুশিক্ষিত, দেশপ্রেমিক আমাদের পার্টি তাদের ক্ষমতায়নে বিশেষভাবে উদ্যোগ নিবে। আমরা আশাবাদী যে মধ্যবিত্ত সমাজের নেতৃত্বে ধনী-গরীব সব ধরনের মানুষই দেশকে পরিচালনা করার যোগ্যতা রাখে।
আমাদের দলে ২৫% কোটা সরাসরি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। শিক্ষার্থীরা দলীয় লেজুরভিত্তিক অঙ্গসংগঠন হিসেবে নয় বরং সরাসরি আমাদের দলের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারবেন, তাদের সম্মানিত করা হবে। আমাদের কোন দলীয় লেজুড়বৃত্তির ছদ্মবেশী অঙ্গসংগঠন থাকবেনা (কারন এটি নির্বাচনী আইন পরিপন্থী, যেমন শিবির হচ্ছে জামাতের ছদ্মবেশী অঙ্গসংগঠন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন হলো জাতীয় নাগরিক কমিটির ছাত্র সংগঠন বা ছদ্মবেশী অঙ্গসংগঠন), তবে দিনমজুর শ্রমিক থেকে উচ্চদক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবী শ্রেনী- সকল পেশাভিত্তিক মানুষকে, সকল জাতিগোষ্ঠী এবং সম্প্রদায়ের মানুষকে সুষমভাবে এই দলে অন্তর্ভুক্তি করা হবে। অবাঙ্গালী কিন্তু বাংলাদেশি এমন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর (যেমন সাঁওতাল, চাকমা ইত্যাদি) জন্য বিশেষ কোটা থাকবে। নারী সদস্যদের মতামতকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
আমাদের পার্টি তারুন্য আর অভিজ্ঞ সিনিয়র সিটিজেনের মিশেলে একটি বৈচিত্রময় দল হবে। আমরা মনে করি পঞ্চাশোর্ধ সিনিয়র সিটিজেনদের অভিজ্ঞতা আমাদের দলের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। পঞ্চাশোর্ধ প্রজ্ঞাবান সিনিয়র সিটিজেনদের আমাদের দলে সর্বোচ্চ সম্মানিত করা হবে। আপনাদের স্বাগতম আমাদের দলে।
১০ নং দফাঃ আমাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড কেমন হবে?
আমাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড অনন্যতা হবে অহিংস আন্দোলন, এবং আলোচনা এবং বিজ্ঞানসম্মত বিতর্কের মাধ্যমে রাজনৈতিক মতবিরোধ নিষ্পত্তিকরণ।
আমরা অহিংস, যুক্তিবাদী এবং অন্যায়ের প্রতিবাদী, কিন্তু ভিন্নমতে সহনশীল। আমরা কেউ ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত নই, আমরা ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
আমরা রাজনীতিতে সামান্যতম সহিংসতা করব না, কারো শরীর স্পর্শ করব না। আমরা উন্নত গনতন্ত্রের মতো অহিংস আন্দোলন এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার গ্যারান্টি দিচ্ছি, সভ্য সমাজের ন্যায় রাজনীতিকে রাজপথের সহিংসতা থেকে জাতীয় সংসদে এবং আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার গ্যারান্টি দিচ্ছি। আমরা সরকারে গেলে বিরোধী দলের সকল নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিব, কাউকে গুমের শিকার হতে দিব না, কাউকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে দিব না, তাদের মত প্রকাশ এবং রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে আন্তরিক থাকব ঠিক যেভাবে এদেশের সকল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায়, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক থাকব।
আমরা কোন “বড় দল” -এর সাথে জোট গঠন করে তাদের আজ্ঞাবহ হবনা, কারন আমরা নিজেরা বড় দল হতে চাই।
রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগ নিয়ে গঠিত বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া উত্তারঞ্চলে শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে চেঞ্জ মেকার পার্টি (সিএমপি) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চেঞ্জ মেকার পার্টির প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকার বাহিরে উত্তরাঞ্চলের কোন বিভাগীয় শহরে। তিস্তা এবং পদ্মা নদীর বাঁধ অপসারণে আন্তর্জাতিক নদীর পানিবণ্টন নিয়ে জাতিসংঘের ওয়াটার কনভেশন আইনে বাংলাদেশ যেন স্বাক্ষর করে চেঞ্জ মেকার পার্টি সরকার গঠন করলে সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে ক্ষতিপূরণও দাবি করা হবে। বাংলাদেশ-ভারত ন্যায্যতার ভিত্তিতে পানি-বণ্টন নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সকল আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। গঙ্গা চুক্তি কেবলমাত্র তখনই গ্রহণযোগ্য হবে যখন পদ্মা ও তিস্তায় পানি প্রত্যাহারের মতো বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে ভারত বিরত থাকবে।
১১ নং দফাঃ আমরা কিভাবে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিব?
আমাদের দলে নমিনেশন বাণিজ্য শূন্য। প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হতে আপনার কোন পয়সা লাবেনা। আপনার একমাত্র যোগ্যতা হচ্ছে মেধা, সততা এবং দেশপ্রেম, দেশকে নিয়ে, আপনার সংসদীয় এলাকাকে নিয়ে আপনার স্বপ্ন কি, ভিসন কি, আপনি দেশকে নিয়ে কতটা ভাবেন, আপনার এলাকাকে কিভাবে গড়বেন, কিভাবে আপনার ভিসন বাস্তবায়ন করবেন সেটির পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা গ্রহণ করা এবং আপনার সংসদীয় আসনের সকল ভোটারের নিকট সেই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা এবং সেটি বাস্তবায়নে আপনি কতটুকু মরিয়া- সেটিই হবে আপনার যোগ্যতা। আপনার ওয়াদা/ নির্বাচনী ইশতেহার পূরনের গ্যারান্টিই হবে কেবল আপনার নমিনেশন পাবার একমাত্র রাস্তা। আমাদের দলের সকল সদস্যবৃন্দ যদি মনে করেন আপনার সেই যোগ্যতা আছে তাহলে আমাদের দলের নিজস্ব ডিজিটাল সিস্টেমের অনলাইন ভোটের মাধ্যমে আমাদের সদস্যরা আপনাকে মনোনীত করবে। কারো ইশারায় বা কোন বিশেষ ব্যাক্তির অঙ্গুলিহেলন আপনার নমিনেশনকে প্রভাবিত করতে পারবেনা।
আমরা বাংলাদেশের ১২ কোটি ৭০ লক্ষ ভোটারের কাছে যাব। ৩০০ আসনে আমরা প্রার্থী দিব। আমাদের প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার ভোটারের কাছে যাবেন। প্রত্যেক ভোটারের সাথে কথা বলবেন। কারো যদি কোন সমস্যা থাকে সেটি আমাদের প্রার্থী ল্যাপটপে নোট ডাউন করবেন। কোন ভোটারের সমস্যা না থাকলে তার কাছে তার যে কোন একটি ব্যাক্তিগত ইচ্ছার (গোষ্ঠীগত বা জাতীয় নয়) কথা জানতে চাওয়া হবে যেটি ভোটে জয়লাভ করলে আমরা পূরণ করব। প্রত্যেক ভোটারের সমস্যা সমাধানে এবং ব্যাক্তিগত ইচ্ছা পূরণে ভোটারকে লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দেয়া হবে। প্রতিশ্রুতির প্রমান হিসেবে রশিদ দেয়া হবে। নির্বাচনে জয়লাভ করার পরে কতদিনের মধ্যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে তার একটি সম্ভাব্য তারিখ প্রতিটি প্রতিশ্রুতির রশিদে উল্লেখ করা থাকবে। লিখিত রশিদের একটি রিসিভ কপি ভোটারের নিকট থাকবে। আরেকটি কপি থাকবে আমাদের প্রার্থীর কাছে বা প্রার্থীর প্রতিনিধির নিকট থাকবে।
একটি বিশেষ অনলাইন ডাটাবেজে প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি এন্ট্রি করা থাকবে যেটি ভোটারের নিকট দৃশ্যমান থাকবে (যদি তিনি গোপনীয়তা বজায় রাখতে চান) অথবা ভোটারের অনুমতি সাপেক্ষে পাবলিকের নিকট ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত থাকবে।
শতভাগ প্রতিশ্রুতি পূরণে আমরা আন্তরিক চেষ্টা করব আর নব্বই ভাগ প্রতিশ্রুতি পূরণের গ্যারান্টি আমরা দিব। সে ক্ষেত্রে সরকার গঠন করার পর অথবা এমপি প্রার্থী হিসাবে বিজয়ী হওয়ার পর যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল প্রতিশ্রতির ৯০% প্রতিশ্রুতি আমাদের এমপি পূরণ করতে না পারেন তাহলে উনি পদত্যাগ করবেন।
আমরা ভোটারদের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচন করব। যদি সরকার গঠন করতে পারি প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি, প্রত্যেকটি সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি আমরা পালন করব। না করতে পারি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অথবা সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপিকে পদত্যাগ করতে হবে এই শর্তে আমরা এমপি অথবা মন্ত্রী প্রার্থীদের নমিনেশন দেব।
১২ নং দফাঃ কারা আমাদের টার্গেট ভোটার?
আমাদের প্রধানমন্ত্রী/সংসদ প্রার্থীগণ হবেন সূর্যের মতো। সূর্যের সাথে আপনি যতই শত্রুতা করেন, যতই তাকে গালি দেন, সমালোচনা করেন সূর্য আলো দিয়েই যাবে। আপনার জন্য তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সে পালন করবেই। ঠিক আর সবার জন্য যেভাবে সে করে।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী যিনি হবেন তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হবার পরে কেউ যদি তার কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশার জন্য আসেন তিনি তো তাকে ফিরিয়ে দিতে পারবেন না। কারন তিনি প্রতিশ্রুতিদ্ধ। এখন গোলাম আজমের ছেলে যদি ন্যায়বিচারের জন্য আসেন তিনি কি তাকে ফিরিয়ে দিবেন? আর যদি ড. জাফর ইকবাল আসেন? কাউকেই আমরা ফিরিয়ে দিতে পারিনা। কারন আমাদের প্রার্থী যখন সত্যিই প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবেন তখন তো তিনি সবার জন্যই প্রধানমন্ত্রী হবেন। কোন রাজনৈতিক দলের জন্য নয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পেশাদারিত্ব নৈতিক মানদণ্ডটি ঠিক এই মানেরই হবে।
তাই আমরা এদেশের সকলের কাছে ভোট চাওয়ার অধিকার রাখি। বাংলাদেশের মুসলমানদের কাছে, বাংলাদেশের হিন্দুদের কাছে, সকলের কাছে আমরা ভোট চাইতে পারি। কারন নির্বাচনে জয়লাভের পর যখন জনগণকে সার্ভিস দেয়ার জন্য আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত হবো তখন তো সবাইকেই আমরা একইভাবে সার্ভিস দিয়ে যাব। তাহলে সবার কাছে ভোট কেন চাইব না?
আপনি যদি মনে করেন আপনি এমন একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে চান যার প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী সবার প্রধানমন্ত্রী হবার নিশ্চয়তা দিচ্ছে, যে দল হবে সবার দল তবেই আমাদের দলে যোগদান করুন, আমাদের সমর্থন করুন।
১৩ নং দফাঃ চাদা এবং ডোনেশন প্রদানে সচ্ছতার এবংজবাবদিহিতার ক্ষেত্রে আমাদের দলীয় নীতি কি?
আমাদের সংগঠনে যদি কোন অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ লাভ হয় (যেমন ক্রাউডফান্ডিং এর ক্ষেত্রে) প্রতিটি ট্রানজেকশনের তথ্য অর্থের পরিমানসহ ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত থাকবে। অর্থদাতা যাচাই করে নিবেন তার অনুদান সঠিক আছে কিনা। দলের প্রচারণার প্রয়োজনে ব্যয়িত প্রতিটি খরচের ট্রানজেকশন বিবরনসহ প্রকাশ করা হবে। আরো অধিকতর স্বচ্ছতার জন্য সাধারণ জনগণের মধ্যে যে কেউ চাইলে সারপ্রাইজ অডিট (আকস্মিক পরিদর্শন) করতে পারবেন, অনিয়ম দুর্নীতি ধরিয়ে দিলে দল আরো পরিশুদ্ধ হবে।
We believe in “Open Financials”.
We Publish real-time donation records and budgets on our website showing exactly where the money goes. Fundraising through small donations and crowdfunding can sustain the campaign while maintaining transparency.
We conduct public “Transparency Audit” of our party and live-stream our internal meetings to demonstrate accountability.
আপনি যদি ১৩ টি দফায় উল্লেখিত প্রতিটি বাক্যের সাথে একমত পোষণ করেন তবেই যোগদান করুন আমাদের দলে।
আমরা কিভাবে নির্বাচনে প্রচারণা করব?
আমরা ইতিহাসের বৃহত্তম জনসংযোগ করব। বাংলাদেশের ১২ কোটি ৭৬ লক্ষ ভোটারের কাছে যাব। ৩০০ আসনে আমরা প্রার্থী দিব। আমাদের প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার ভোটারের কাছে যাবেন। প্রত্যেক ভোটারের সাথে কথা বলবেন। কারো যদি কোন সমস্যা থাকে সেটি আমাদের প্রার্থী ল্যাপটপে নোট ডাউন করবেন। কোন ভোটারের সমস্যা না থাকলে তার কাছে তার যে কোন একটি ব্যাক্তিগত ইচ্ছার কথা (গোষ্ঠীগত বা জাতীয় নয়) জানতে চাওয়া হবে যেটি ভোটে জয়লাভ করলে আমরা পূরণ করব। প্রত্যেক ভোটারের সমস্যা সমাধানে এবং ব্যাক্তিগত ইচ্ছা পূরণে ভোটারকে লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দেয়া হবে। প্রতিশ্রুতির প্রমান হিসেবে রশিদ দেয়া হবে।
নির্বাচনে জয়লাভ করার পরে কতদিনের মধ্যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে তার একটি সম্ভাব্য তারিখ প্রতিটি প্রতিশ্রুতির রশিদে উল্লেখ করা থাকবে। লিখিত রশিদের একটি রিসিভ কপি ভোটারের নিকট থাকবে। আরেকটি কপি থাকবে আমাদের প্রার্থীর কাছে বা প্রার্থীর প্রতিনিধির নিকট থাকবে।
একটি বিশেষ অনলাইন ডাটাবেজে প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি এন্ট্রি করা থাকবে যেটি শুধু ভোটারের নিকট দৃশ্যমান থাকবে (যদি তিনি গোপনীয়তা বজায় রাখতে চান) অথবা ভোটারের অনুমতি সাপেক্ষে পাবলিকের নিকট ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত থাকবে।
শতভাগ প্রতিশ্রুতি পূরণে আমরা আন্তরিক চেষ্টা করব আর নব্বই ভাগ প্রতিশ্রুতি পূরণের গ্যারান্টি আমরা দিব। সে ক্ষেত্রে সরকার গঠন করার পর অথবা এমপি প্রার্থী হিসাবে বিজয়ী হওয়ার পর যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল প্রতিশ্রতির ৯০% প্রতিশ্রুতি আমাদের এমপি পূরণ করতে না পারেন তাহলে উনি পদত্যাগ করবেন।
আমরা লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচন করব। যদি সরকার গঠন করতে পারি প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি, প্রত্যেকটি সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি আমরা পালন করব। যদি না করতে পারি তাহলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অথবা সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপিকে পদত্যাগ করতে হবে এই শর্তে আমরা এমপি অথবা মন্ত্রী প্রার্থীদের নমিনেশন দেব।
মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের মধ্য-বামপন্থী, দুর্নীতিবিরোধী ও মানবসেবায় আত্মোৎসর্গকারীদের একত্রীত করার মহান উদ্দেশ্যে গঠিত দল চেঞ্জ মেকার পার্টি (সিএমপি) দেশসেবার সৎ নিয়তের রাজনীতি করতে চায়। আমাদের দলের দায়িত্বশীল পদে আসতে চাইলে, দলের পক্ষে সক্রিয় রাজনীতির ব্যাপারে আগ্রহী হলে ইমেইল করে জানাবেন প্লিজ।
ন্যায়বাংলা পার্টি (Alternative English Name: Change Maker Party Bangladesh)।
join@cmpbd.org
Empower Full Democracy

দলে যোগদান করতে আমাদের প্রথমে ইমেইল করবেনঃ নাম, জেলা, এবং পেশা এবং অরিজিনাল ফেসবুক প্রোফাইলের লিংক উল্লেখ করবেন, এনআইডি কার্ডের ফ্রন্টসাইডের ছবি ইমেইলের সাথে এটাচ করবেন। join@cmpbd.org

এনআইডি কার্ডের ছবি কেন চাচ্ছি? কারন আমাদের দলে যেন অন্য কোন দলের গুপ্তচর না ঢুকতে পারে সেজন্য আপনার জেনুইন ফেসবুক প্রোফাইল এবং এনআইডি কার্ডের ফ্রন্টসাইডের ছবি ইমেইলের সাথে দিলে আমরা নিশ্চিন্ত থাকব।

এরপর আমরা আপনার ইমেইলে এবং ফেসবুকে কথা বলব। আমাদের আদর্শিক অবস্থান আপনার কাছে পরিষ্কার হলে আপনি দলে জয়েন করবেন।
We believe in Open Financials.
We want to reach our 12 crore Bangladeshi voters. We need your financial and voluntary support. We Publish real-time donation records and budgets on our website showing exactly where the money goes. Fundraising through small donations and crowdfunding can sustain the campaign while maintaining transparency.